রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা কোর কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্রের চারশ গজের মধ্যে মেলা বসালে পরিবেশগত ব্যাঘাত হবে না এবং কোনো আপত্তি নেই। তিনি এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এক অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
বৈঠকের শেষে একজন সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে জিজ্ঞাসা করেন, পূর্বে কোনো উপদেষ্টা ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে মেলা বসাতে বলেছিলেন, আর এখন আপনি ভোটারদের পথ মসৃণ রাখতে বলছেন – এতে কি বিরোধ আছে? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো বিরোধ নেই; মেলা যদি দূরে রাখা হয়, অর্থাৎ চারশ গজের মধ্যে না বসে, তবে পরিবেশ ও ভোটার চলাচল উভয়ই সুষ্ঠু থাকবে।
উল্লেখযোগ্য যে, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের পূর্বের মন্তব্যে মেলা ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি বসাতে বলা হয়েছিল, যাতে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ে এবং মেলায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমও চালু থাকে। এই দৃষ্টিভঙ্গি ও জাহাঙ্গীর আলমের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য নির্বাচনী প্রস্তুতির বিভিন্ন দিককে তুলে ধরে।
বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের সময় থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের সংখ্যা, পুলিশের অস্ত্রের পরিমাণ এবং সাধারণ নাগরিকের লাইসেন্সকৃত অস্ত্রের তথ্য সম্পর্কে। জাহাঙ্গীর আলম এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় তা প্রকাশ করতে অক্ষমতা প্রকাশ করেন এবং পরবর্তী বৈঠকে তথ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন।
অধিকন্তু, তিনি এক বছরের ধারাবাহিক প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে নিশ্চিত করেন যে, নির্বাচনের সঙ্গে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি যুক্ত নেই এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো ঝুঁকি দেখা না দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই বক্তব্যে তিনি পূর্বের সব অভিযোগকে অস্বীকার করে ধারাবাহিকভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখযোগ্য যে, বৈঠকের পরে তিনি লিখিতভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এতে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন, প্রচারণা সময়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ‑২ এর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার, মাদক বিরোধী অভিযান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোচনা করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হল নির্বাচনের সময় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য হুমকি দূর করা।
এইসব ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সরকার নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে তা বিরোধী দলগুলোর নজরে আসতে পারে, তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃঢ় অবস্থান ও পরিকল্পনা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
ভবিষ্যতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে জনসাধারণের উদ্বেগ দূর করার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগ দেবে। পরবর্তী বৈঠকে লুট হওয়া অস্ত্রের তথ্য প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের পূর্বে স্বচ্ছতা বাড়াবে বলে আশা করা যায়।



