গৃহ পরামর্শদাতা লে. জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আজ গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার ক্যাম্পাসে ৬৩তম ব্যাচের মহিলা কারাগার রক্ষী সমারোহে নির্বাচনী নিরাপত্তা ও কারাবাস নীতি সম্পর্কে মন্তব্য করেন।
তিনি ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই বলে জোর দিয়ে বলেন যে, বিদেশ থেকে আসা কোনো বার্তা এই নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করতে পারে না।
বিশেষ করে, বর্তমানে ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থানরত শেখ হাসিনার কোনো অডিও বার্তা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলবে না, এ কথাও তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।
এদিকে, তিনি যদি শেখ হাসিনা ও তার দলীয় নেতারা সাহস দেখাতে পারেন, তবে দেশে ফিরে আইনি কাঠামোর মধ্যে কথা বলা উচিত, এমন আহ্বান জানান।
জাহাঙ্গীর আরও বলেন, পূর্বে যারা তাদের সমর্থন করত, তারা এখন আর পাশে নেই; অনেক সমর্থক দেশ ত্যাগ করে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
এমন অবস্থায় তিনি ‘ফ্যাসিস্টদের’ কোনো সমর্থক অবশিষ্ট নেই, এ কথাটি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন।
সমারোহে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যের সময় তিনি কারাগার নিরাপত্তা ও বন্দীর অধিকার রক্ষার সমন্বয়কে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।
বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ও মানবাধিকার একে অপরের পরিপূরক, তাই বন্দীর মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং তাদেরকে সংস্কারিত নাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তিনি বলেন।
বন্দীদের মানবিক আচরণ, সমান সুযোগ, বৈষম্যহীনতা এবং সামাজিক মর্যাদা কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানও প্রতিফলিত করে, এ কথায় তিনি জোর দেন।
কারাগারকে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে তিনি বলেন, এটি অপরাধবিচার ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিরাপদ হেফাজত নিশ্চিত করে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দোষী সংশোধন ও সামাজিক পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্বচ্ছ, জবাবদিহি-সক্ষম এবং বৈষম্যহীন কারাগার প্রশাসনের প্রয়োজনীয়তা তিনি পুনরায় তুলে ধরেন।
অবশেষে, কারাগার ব্যবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করে তিনি প্রশাসনের নৈতিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এই মন্তব্যগুলো নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ সরকার নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিরোধী দলের আইনি পথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।



