আজ (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) যুক্তরাজ্যের জোসেফ রাউন্ট্রি ফাউন্ডেশন (JRF) একটি নতুন গবেষণা প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে যে বর্তমানে প্রায় ৬.৮ মিলিয়ন মানুষ ‘অত্যন্ত গভীর দারিদ্র্য’তে বসবাস করছেন, যা ত্রিশ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা। এই পরিস্থিতি দেশের দারিদ্র্য নীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর তীব্র প্রশ্ন তুলছে।
‘অত্যন্ত গভীর দারিদ্র্য’ বলতে এমন পরিবারকে বোঝায় যাদের বাসস্থান ব্যয় বাদে আয় যুক্তরাজ্যের মধ্যম আয়ের ৪০% এর নিচে। একটি দম্পতি দুইটি ছোট সন্তানসহ বছরে প্রায় £১৬,৪০০ (প্রায় $২২,৪৪৬) উপার্জন করলে এই সীমা অতিক্রম করে না। এই মানদণ্ডে গৃহস্থালির আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে বিবেচিত হয়।
গবেষণায় দেখা যায় সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার ১৯৯৪/৯৫ সালে ২৪% থেকে ২০২৩/২৪ সালে ২১% এ সামান্য হ্রাস পেয়েছে। যদিও মোট দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে, তবু সবচেয়ে তীব্র দারিদ্র্য স্তরে বৃদ্ধি ঘটেছে।
১৯৯৪/৯৫ সালে ‘অত্যন্ত গভীর দারিদ্র্য’তে থাকা পরিবার ৮% ছিল, যা এখন ১০% এ বেড়েছে। এই শতাংশ মোট দারিদ্র্যভুক্তদের প্রায় অর্ধেকের সমান। ফলে, দারিদ্র্যের গঠন আরও ধ্রুবক ও গভীর স্তরে পরিবর্তিত হয়েছে।
শিশু দারিদ্র্যের সংখ্যা ৪.৫ মিলিয়নকে ছুঁয়েছে, যা তৃতীয় ধারাবাহিক বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশুরা এখনও দারিদ্র্যের সবচেয়ে প্রভাবিত গোষ্ঠী হিসেবে রয়ে গেছে। এই প্রবণতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুযোগকে সীমিত করতে পারে।
অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস নভেম্বর মাসে দুই-শিশু সীমা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন, যা এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। সরকার অনুমান করে এই পরিবর্তনটি প্রায় £৩.১ বিলিয়ন খরচ করবে, তবে পরিবারগুলোর জন্য বেনিফিট বাড়িয়ে শিশু দারিদ্র্য কমাতে লক্ষ্য রাখে।
২০১৭ সালে কনসারভেটিভ সরকার এই দুই-শিশু সীমা প্রয়োগ করে, যার ফলে তৃতীয় বা তদূর্ধ্ব সন্তান থাকা নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলো অতিরিক্ত সহায়তা পায় না। এই নীতি বহু পরিবারকে আর্থিক সংকটে ফেলেছিল। রিভসের নতুন পদক্ষেপ এই সীমা সরিয়ে দারিদ্র্য হ্রাসের প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলেছে।
JRF নতুন নীতি স্বাগত জানিয়ে বলেছে যে দুই-শিশু সীমা বাতিল একা যথেষ্ট নয়। তারা দাবি করে যে সরকারকে দারিদ্র্য নির্মূলের জন্য আরও সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করতে হবে। না হলে দারিদ্র্য হ্রাসের গতি ধীর হয়ে যাবে বলে সতর্কতা জানানো হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, এবং বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের মধ্যে দারিদ্র্যের হার বিশেষভাবে বেশি। এই গোষ্ঠীগুলোকে অতিরিক্ত সহায়তা ও লক্ষ্যভিত্তিক নীতি প্রয়োজন। অন্যদিকে, অন্যান্য গোষ্ঠীর তুলনায় তাদের আর্থিক অবস্থা আরও দুর্বল।
বিগ ইস্যু দারিদ্র্য বিরোধী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা জন বার্ড এই ফলাফলকে ‘সমাজের জন্য খারাপ সংবাদ’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দারিদ্র্যের বিস্তার সামাজিক সংহতি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
একই সময়ে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি নভেম্বর মাসে ০.৩% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জুনের পর সর্বোচ্চ মাসিক বৃদ্ধি। তবে মুদ্রাস্ফীতি পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি হয়ে ৩% এ পৌঁছেছে। এই মুদ্রাস্ফীতি ও দারিদ্র্যের সমন্বয় নীতি নির্ধারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
দারিদ্র্যের নতুন তথ্য সরকারকে সামাজিক কল্যাণের কাঠামো পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে। বিশেষ করে শিশু, প্রতিবন্ধী ও জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা পরিকল্পনা জরুরি। ভবিষ্যতে দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য বিস্তৃত আর্থিক ও কর্মসংস্থান নীতি প্রয়োজন হবে।



