মঙ্গলবার দুপুরের কাছাকাছি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা শাটল ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। ইমু মনি জ্যোতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী, ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে চড়ে গিয়ে পাথরের আঘাতে গম্ভীর আঘাত পেয়েছেন। ঘটনাটি নগরের ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটেছে।
ইমু পাথরের আঘাতে নাকের নিচ থেকে ঠোঁট পর্যন্ত কাটা হয়েছে। পাথরটি ট্রেনের জানালার বাইরে থেকে আঘাত করে সরাসরি তার মুখে আঘাত করেছে, ফলে নাকের নীচে থেকে ঠোঁট পর্যন্ত তীক্ষ্ণ কাটা দেখা যায়। আঘাতের তীব্রতা তৎক্ষণাৎ রক্তপাতের কারণ হয়, যা তার সহপাঠীরা দ্রুত থামানোর চেষ্টা করে।
শাটল ট্রেনে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষার্থীরা প্রথমে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিষ্কার কাপড় ও গরম পানির সাহায্যে প্রাথমিক চিকিৎসা করে। তৎক্ষণাৎ ইমুকে ট্রেন থেকে নামিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে ক্ষত পরিষ্কার করে, রক্তক্ষরণ কমাতে চাপ প্রয়োগ করেন।
প্রাথমিক চিকিৎসার পর, ইমুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় ক্ষতটি তুলনামূলকভাবে গভীর ছিল, ফলে নাকের নিচ থেকে ঠোঁট পর্যন্ত কাটা অংশে চারটি সেলাই করা হয়। চিকিৎসা দলের মতে, ক্ষতটি যথেষ্ট গভীর হওয়ায় রোগীর পর্যবেক্ষণ ও অতিরিক্ত চিকিৎসা প্রয়োজন।
ইমুর সঙ্গে থাকা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী তাওহীদুল ইসলাম জানান, ইমুকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেলাই করা অংশটি সঠিকভাবে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। চিকিৎসা কেন্দ্রে উপস্থিত মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, যিনি ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসা কর্মকর্তা, উল্লেখ করেন, সাড়ে ১২টার দিকে ইমুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং গহীন কাটা অংশের জন্য দ্রুত সেলাই করা হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান ঘটনাটি সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা ও শাটল ট্রেনের চলাচল সংক্রান্ত নির্দেশনা কঠোরভাবে প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেন।
শাটল ট্রেনের মতো জনপরিবহনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাথর নিক্ষেপের মতো হিংসাত্মক কাজের ফলে শুধুমাত্র শারীরিক ক্ষতি নয়, মানসিক আঘাতও হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি।
শাটল ট্রেনে যাত্রা করার সময় যদি কোনো অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করা যায়, তা সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনের চালক বা নিরাপত্তা কর্মীদের জানানো উচিত। এছাড়া, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেলমেট বা সুরক্ষামূলক গিয়ার ব্যবহার করা, এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর দ্রুত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করা বুদ্ধিমানের কাজ।
আপনার কি শাটল ট্রেনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো অভিজ্ঞতা আছে? আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং একসাথে নিরাপদ যাত্রার পরিবেশ গড়ে তুলতে সাহায্য করুন।



