ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ আগামী বুধবার প্যারিসে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের নেতা ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনের সঙ্গে একটি কার্যকরী মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট দপ্তরের মঙ্গলবার প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মাখোঁ ইউরোপীয় সংহতি বজায় রাখা এবং ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি ফ্রান্সের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করবেন।
এই বৈঠকটি কয়েক দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি থেকে সরে আসার পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা আর্কটিকের খনিজসম্পদসমৃদ্ধ দ্বীপের ওপর আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়িয়েছিল।
মাখোঁর কার্যালয় জানিয়েছে, আলোচনার বিষয়বস্তুতে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং গ্রিনল্যান্ডের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে, এবং ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সমর্থন প্রদান করতে প্রস্তুত।
রাশিয়ার আর্কটিক হুমকি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রেক্ষাপটে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের নেতা ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন এই সপ্তাহে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সপ্তাহের শুরুতে তারা হামবুর্গ ও বার্লিনে ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, এবং বুধবার প্যারিসে অনুষ্ঠিত কার্যকরী মধ্যাহ্নভোজে এই আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
ডেনমার্কের এই সফর আর্কটিক নীতি সমন্বয়, নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং উন্নয়ন প্রকল্পে ইউরোপীয় সমর্থন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
গত সপ্তাহে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি থেকে সরে গেছেন, এবং উভয় নেতাই একটি ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ নিয়ে একমত হয়েছেন, যদিও তার বিশদ প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিবর্তন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের ওপর তাত্ক্ষণিক চাপ কমিয়ে দেয়, ফলে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের আর্কটিক এজেন্ডা গড়ে তোলার সুযোগ পায়।
ফ্রান্স ডেনমার্কের প্রতি ইউরোপীয় সংহতির ক্ষেত্রে অগ্রভাগে নিজেকে স্থাপন করেছে এবং আগামী মাসে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক-এ একটি কনস্যুলেট খোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
প্যারিসে অনুষ্ঠিত মধ্যাহ্নভোজে ফ্রান্সের সমর্থন দৃঢ় করা, আর্কটিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নির্ধারণ এবং গ্রিনল্যান্ডের অবকাঠামো ও সামাজিক প্রোগ্রামের জন্য তহবিলের সম্ভাবনা আলোচনা করা হবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ফ্রান্স-ডেনমার্ক সহযোগিতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্কটিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতি ও জলবায়ু সংক্রান্ত বিনিয়োগে প্রভাব ফেলতে পারে।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জন্য এই বৈঠক তাদের অগ্রাধিকার সরাসরি একটি প্রধান ইউরোপীয় শক্তির সামনে উপস্থাপনের সুযোগ দেবে, যা খনন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে ত্বরান্বিত হতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট ভূখণ্ডগত আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে আসার ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর্কটিক শাসনে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে, এবং ফ্রান্সের সক্রিয় অংশগ্রহণ সেই প্রবণতাকে জোরদার করে।
এই কার্যকরী মধ্যাহ্নভোজের ফলাফল আঞ্চলিক স্টেকহোল্ডার এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করা হবে, কারণ এটি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিত প্রচেষ্টার দিকনির্দেশনা নির্ধারণের সম্ভাবনা রাখে।



