চীনের হুয়াজু অ্যাক্সেসরিজ কো. লিমিটেড এবং বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) সোমবার ঢাকার বেপজা কমপ্লেক্সে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তি অনুসারে, চট্টগ্রামের মিরসরাইতে অবস্থিত বেপজা ইকোনমিক জোনে একটি অ্যাক্সেসরিজ উৎপাদন কারখানা স্থাপন করা হবে। কোম্পানি মোট ১৬.৩৪ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে ১,৩৯৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে কর্মসংস্থান প্রদান করবে।
বিনিয়োগের পরিমাণ এবং সরাসরি কর্মসংস্থান সংখ্যা উভয়ই দেশের শিল্পখাতে নতুন গতিবেগ যোগাবে বলে বিশ্লেষকরা আশা করছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশি মূলধনের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় শ্রমশক্তির দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করবে। তদুপরি, বেপজা জোনে নতুন উৎপাদন ইউনিটের উপস্থিতি শিল্প পার্কের সামগ্রিক আকর্ষণ বাড়াবে।
নতুন কারখানাটি ব্রা কাপ, ব্রা ওয়্যার, হুক‑এন্ড‑আই, ওয়েবিং টেপ, ইলাস্টিক, ড্রস্ট্রিং, স্লাইডার, স্ন্যাপ বাটন, লোগো, ব্যাগ ও লাগেজ হার্ডওয়্যার এবং রিবনসহ বিস্তৃত পণ্যের উৎপাদন করবে। বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৪০ লাখ কিলোগ্রাম নির্ধারিত হয়েছে, যা দেশীয় গার্মেন্টস ও লাগেজ শিল্পের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উৎপাদিত পণ্যগুলো গুণগত মানের দিক থেকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, ফলে রপ্তানি বাজারেও প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়বে। এছাড়া, স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করে কাঁচামাল ও উপকরণের আমদানি হ্রাসে সহায়তা করবে।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার বিনিয়োগ প্রচার বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. তানভীর হোসেন এবং হুয়াজু অ্যাক্সেসরিজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইয়াং ইয়ানমেই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত থেকে সমর্থন জানিয়ে অনুষ্ঠানকে শোভিত করেন। এছাড়া, ইঞ্জিনিয়ারিং সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন, ফাইন্যান্স সদস্য এএনএম ফয়েজুল হক, এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেসের নির্বাহী পরিচালক খুরশিদ আলম, প্রশাসন বিভাগের নির্বাহী পরিচালক সামির বিশ্বাস এবং পাবলিক রিলেশনসের নির্বাহী পরিচালক এএসএম আনোয়ার পারভেজসহ বেপজার অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বেপজা প্রধান নতুন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে শিল্প স্থাপন সহজতর করা, দ্রুত সেবা প্রদান এবং ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের প্রকল্প দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বেপজার নীতি অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীকে প্রয়োজনীয় পারমিট, অবকাঠামো এবং সহায়তা দ্রুত প্রদান করা হবে, যাতে প্রকল্পের বাস্তবায়ন সময়সূচি মেনে চলা যায়।
এই বিনিয়োগ গার্মেন্টস শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় লিঙ্গারি ও লাগেজ উপকরণের স্থানীয় সরবরাহ নিশ্চিত করবে, ফলে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং খরচে সাশ্রয় হবে। উৎপাদিত পণ্যগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে রপ্তানি করা সম্ভব হবে, যা দেশের বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসে সহায়তা করবে। তদুপরি, সরাসরি ১,৩৯৫ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় কর্মশক্তির আয় বৃদ্ধি পাবে এবং পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই ধরনের শিল্প বিনিয়োগের মাধ্যমে সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, গ্লোবাল লিঙ্গারি ও ট্রাভেল গুডসের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে, ফলে হুয়াজু অ্যাক্সেসরিজের উৎপাদন ক্ষমতা ভবিষ্যতে লাভজনক হতে পারে। তবে, উচ্চ প্রযুক্তি যন্ত্রপাতি ও দক্ষ কর্মীর প্রয়োজনীয়তা প্রকল্পের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চীনা প্রযুক্তির উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতা সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা এবং বিকল্প সরবরাহকারী বিকাশ করা জরুরি।
সারসংক্ষেপে, হুয়াজু অ্যাক্সেসরিজের বেপজা জোনে বিনিয়োগ দেশের উৎপাদন ভিত্তি সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সফল বাস্তবায়ন হলে এটি অন্যান্য বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে এবং দেশের শিল্প কাঠামোকে বৈচিত্র্যময় করতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশকে গ্লোবাল অ্যাক্সেসরিজ সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।



