20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবগুড়ায় ১২ মামলার আসামি সোহাগ সরকারকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে

বগুড়ায় ১২ মামলার আসামি সোহাগ সরকারকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে

বগুড়া শহরের চকসুত্রাপুর, কসাইপাড়া এলাকায় ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার ভোরবেলায় র‌্যাব‑১২ দলের সদস্যরা ৪৩ বছর বয়সী সোহাগ সরকারকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে। তিনি পূর্বে তিনটি হত্যাসহ মোট বারোটি মামলার আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন এবং এই গ্রেপ্তার তাকে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোহাগ সরকার মজিবর রহমানের পুত্র, যিনি বগুড়া শহরের পরিচিত যুবলীগ নেতা ও প্রাক্তন পৌর কাউন্সিলর আব্দুল মতিন সরকারের ভাই। তাছাড়া তিনি শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকারেরও ছোট ভাই, যা তার রাজনৈতিক পারিবারিক পটভূমি স্পষ্ট করে।

তার বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের পর থেকে দুইটি পৃথক হত্যার অভিযোগ রয়েছে। প্রথমটি ৫ আগস্টের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, আর দ্বিতীয়টি অন্য এক ঘটনার সঙ্গে সংযুক্ত। এই দুইটি মামলার পাশাপাশি, অতীতে আরেকটি হত্যার মামলা, বিস্ফোরক দ্রব্য সংক্রান্ত আইনের লঙ্ঘন এবং অন্যান্য অপরাধের অভিযোগও রয়েছে, মোট বারোটি মামলা।

হত্যা মামলাগুলোর মধ্যে একটি ৫ আগস্টের রাতে ঘটেছে, যেখানে এক ব্যক্তি নিহত হয়। অন্যটি পূর্বে ঘটিত একটি সংঘাতে ঘটেছে, যেখানে একইভাবে প্রাণহানি হয়েছে। উভয় মামলায় সোহাগ সরকারের সরাসরি জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত চলমান।

বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের অধীনে আনা অভিযোগটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঘটিত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া আরেকটি মামলা রয়েছে, যেখানে তিনি বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন, যার মধ্যে অবৈধ অস্ত্রধার এবং অন্যান্য আইনি লঙ্ঘন অন্তর্ভুক্ত।

গ্রেপ্তারটি র‌্যাব‑১২ বগুড়া কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ নেতৃত্বে সম্পন্ন হয়। দলটি ভোরের প্রথম ঘণ্টায় কসাইপাড়া এলাকার সোহাগ সরকারের নিজ বাড়িতে পৌঁছে, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুসারে তাকে আটক করে। গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় কোনো প্রতিবন্ধকতা বা সহিংসতা রিপোর্ট করা হয়নি।

ফিরোজ আহমেদ গ্রেপ্তার সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, সোহাগ সরকারকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিস্ফোরক ও অন্যান্য অপরাধের সন্দেহজনক কার্যকলাপের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজনকে নিরাপদে আটক করা এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ সরকারকে তৎক্ষণাৎ বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। সেখানে তাকে অপরাধমূলক দায়ের ভিত্তিতে জামিনের ব্যবস্থা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর জন্য আদালতে উপস্থিত হতে হবে।

বগুড়া জেলা আদালত আগামী সপ্তাহে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর শোনার জন্য তার উপস্থিতি আদেশ করবে। আদালত তার বিরুদ্ধে উল্লিখিত সব অভিযোগের প্রমাণ উপস্থাপন করার সুযোগ দেবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে।

সোহাগ সরকারের পূর্বের গ্রেপ্তার ও মুক্তি সম্পর্কিত তথ্য পূর্বে প্রকাশিত হয়েছে, তবে বর্তমান গ্রেপ্তারটি তার অপরাধমূলক ইতিহাসের ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই ধরণের পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে।

বগুড়া পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, সোহাগ সরকারের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলার তদন্ত এখনও চলমান এবং প্রমাণ সংগ্রহের কাজ দ্রুততর করা হবে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর আইনি দিক থেকে যথাযথ পর্যালোচনা নিশ্চিত করা হবে।

এই গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া বগুড়া অঞ্চলে অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি প্রয়োগের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা চালু রয়েছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments