বাংলাদেশ সরকার র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB)‑এর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ২০২৫‑২৬ অর্থবছরের মধ্যে তিনটি জিপি, একশো টহল পিকআপ ট্রাক এবং ষাটটি এয়ারকন্ডিশনড মাইক্রোবাস ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে নেওয়া হবে, যা পূর্বে নির্ধারিত উন্মুক্ত দরপত্রের পরিবর্তনকে নির্দেশ করে।
অনুমোদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে নেওয়া হয়। বৈঠকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যানবাহন দ্রুত সরবরাহ করা সম্ভব হবে এবং র্যাবের তৎক্ষণাৎ অপারেশনাল চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।
প্রকল্পের মূল পরিকল্পনা প্রাথমিকভাবে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে গাড়ি সংগ্রহের ছিল। তবে সময়মত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য এবং জরুরি নিরাপত্তা চাহিদা পূরণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সরাসরি ক্রয়ের দিকে পরিবর্তন করা হয়েছে। এই পরিবর্তনটি সরকারী ক্রয় নীতিমালার মধ্যে বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে।
একই দিনে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় পরিকল্পনাও অনুমোদিত হয়। প্রথমত, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪০,০০০ টন দানাদার ইউরিয়া সার আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে।
স্থানীয় বাজার থেকে মসুর ডাল ক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে দশটি লটে মোট ১০,০০০ টন ডাল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপটি ডাল সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষক ও ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সহায়তা করবে।
অন্যদিকে, এক কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল এবং সিঙ্গাপুর থেকে পাঁচটি কার্গো লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (LNG) আমদানি করার অনুমোদনও একই সভায় প্রদান করা হয়েছে। তেল ও গ্যাসের এই আমদানি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্প উৎপাদন শক্তি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
রাশিয়া থেকে ৩৫,০০০ টন মিউরেট অব পটাশ‑এমওপি সার আমদানি করার প্রস্তাবেও কমিটি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। পটাশ সার দেশের ফসলের ফলন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, ফলে কৃষি খাতে এই পদক্ষেপের ইতিবাচক প্রভাব প্রত্যাশিত।
র্যাবের নতুন গাড়ি ও মাইক্রোবাসের ক্রয় সম্পন্ন হলে, র্যাবের গতি, প্রতিক্রিয়া সময় এবং জরুরি অপারেশনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি গ্রহণের ফলে প্রক্রিয়ার সময়সীমা কমে দ্রুত সরবরাহ সম্ভব হবে, যা নিরাপত্তা সংস্থার কার্যক্রমে ত্বরান্বিত প্রভাব ফেলবে।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন ২০২৫‑২৬ অর্থবছরের শেষের দিকে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরগুলো ক্রয় প্রক্রিয়া তদারকি করবে এবং সময়মত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। এই ধারাবাহিকতা দেশের নিরাপত্তা ও কৃষি উন্নয়নের সমন্বিত লক্ষ্যকে সমর্থন করবে।



