পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী শিশুর অপহরণ ও হত্যার মামলায় চারজন আত্মীয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাইয়ান মালিকের দেহ সন্ধ্যার দিকে উটর আতর্কালী গ্রাম, ইকরি ইউনিয়নের একটি গরু শেডে পাওয়া গিয়েছে। তদন্তে রাইয়ানের চাচাতো ভাই রিয়াদ মালিকের হাতে র্যানসম নোটের লেখনী পাওয়া যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট পরিবারকে অপরাধের শৃঙ্খলে যুক্ত করা হয়েছে।
শিশুটির দেহ গরু শেডের ভিতরে একটি বস্তা ও খড়ের নিচে লুকিয়ে ছিল এবং শেডটি রিয়াদের পিতার মালিকানাধীন। শেডটি পরিবারের বাড়ি থেকে প্রায় পঞ্চাশ ফুট দূরে অবস্থিত, যা দেহের দ্রুত সনাক্তকরণে সহায়তা করে। দেহ উদ্ধার করার পর তা পিরোজপুর সদর হাসপাতালের মরগে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
শিশুটির পূর্ণ নাম মি. রায়ান মালিক, বয়স পাঁচ বছর, এবং তার পিতা রসেল মালিক মালয়েশিয়ায় কাজ করা বাংলাদেশি প্রবাসী। রায়ান শনিবার দুপুর থেকে অদৃশ্য হয়ে থাকায় তার মা তান্নি আক্তার একই দিনই ভান্ডারিয়া থানা-তে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করেন।
পরের দিন পরিবার তাদের বাড়ির কাছাকাছি একটি র্যানসম নোট পায়, যেখানে এক লক্ষ টাকার দাবি করা হয়েছে। তান্নি নোটটি পাওয়ার পরই র্যানসমের জন্য মামলা দায়ের করেন এবং পিরোজপুর জেলা ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ ও ভান্ডারিয়া থানার পুলিশ যৌথভাবে অপহরণ মামলায় পদক্ষেপ নেয়। তদন্তের সময় র্যানসম নোটের হাতের লেখা রিয়াদ মালিকের সাথে মিলে যাওয়া নিশ্চিত করা হয়।
রিয়াদ, ১৯ বছর বয়সী কলেজ ছাত্র এবং রায়ানের চাচাতো ভাই, জিজ্ঞাসাবাদে দেহের অবস্থান প্রকাশ করে। তার তথ্য অনুযায়ী দেহটি তার পিতার গরু শেডে লুকিয়ে ছিল, যা শেডের মালিক মিজানুর রহমান, ৪২ বছর বয়সী।
মিজানুর রহমানের পাশাপাশি তার স্ত্রী পারভিন বেগম, ৩৫ বছর এবং রিয়াদের চাচা সাইদুল ইসলাম, ৩৬ বছরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাইদুল ইসলাম স্বীকার করেন যে তিনি রিয়াদকে র্যানসম নোট লিখতে এবং অর্থ চাওয়ার পরিকল্পনা করতে উত্সাহিত করেছিলেন।
ভান্ডারিয়া থানার ওয়্যার্ড অফিসার দেউয়ান জগলু হসেন জানান, দেহটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতালের মরগে পাঠানো হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের আদালতের হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেস ফাইল করা হয়েছে এবং পরবর্তী আদালত শোনার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। তদন্তকারী দল দেহের বিশ্লেষণ ফলাফল ও অপরাধের মোটিভ সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে এবং শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিবারকে সহায়তা প্রদান এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়



