18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাকাঁচা পাটের ঘাটতি নিয়ে জুট মিলগুলো ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সমগ্র দেশব্যাপী বন্ধের...

কাঁচা পাটের ঘাটতি নিয়ে জুট মিলগুলো ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সমগ্র দেশব্যাপী বন্ধের হুমকি

বাংলাদেশের জুট শিল্পের প্রধান সমিতি, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (BJMA) জানিয়েছে যে, সরকার কাঁচা পাটের তীব্র ঘাটতি সমাধান না করলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সমগ্র দেশে উৎপাদন বন্ধের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সতর্কতা শিল্পের সদস্য মিলগুলোকে প্রভাবিত করে, যেগুলো ইতিমধ্যে কাঁচা পাটের অভাবে উৎপাদন কমিয়ে ফেলেছে এবং কিছু মিল বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

BJMA উল্লেখ করেছে যে, বর্তমান আর্থিক বছরের শেষের দিকে (২০২৫-২৬) তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচা পাটের যথাযথ সরবরাহ না পেয়ে গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি। কাঁচা পাটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায়, অনেক মিলের ক্রয়ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে।

সমিতি প্রকাশিত প্রেস রিলিজে জানায়, কাঁচা পাটের বর্তমান বাজারমূল্য প্রতি মৌন্ডে ৫,০০০ থেকে ৫,৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা পাটের গুণমানের ওপর নির্ভরশীল। এই মূল্যসীমা বেশিরভাগ মিলের জন্য অতিরিক্ত ব্যয়সাপেক্ষ, ফলে উৎপাদন পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে।

তুলনামূলকভাবে, জুলাই-আগস্ট ২০২৫ মৌসুমে একই পণ্য প্রতি মৌন্ডে ২,২০০ থেকে ২,৪০০ টাকার মধ্যে লেনদেন হচ্ছিল। ছয় মাসের মধ্যে দাম প্রায় দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১২০ শতাংশেরও বেশি বাড়ে, যা বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

দামবৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে সমিতি সরবরাহ-চাহিদার অমিল, অব্যাহত রপ্তানি এবং কিছু ব্যবসায়ীর গুদামজাত পাটের সঞ্চয়কে উল্লেখ করেছে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত পাটের চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ যথেষ্ট না হওয়ায় বাজারে ঘাটতি দেখা দেয়।

BJMA দাবি করে যে, কয়েকজন মধ্যস্থতাকারী গুদামজাত পাটের বড় পরিমাণ সংরক্ষণ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। এই গোষ্ঠীর কার্যক্রমের ফলে পাটের দাম অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ছে এবং দেশীয় উৎপাদনকারীদের ক্ষতি হচ্ছে।

১ জানুয়ারি, সমিতি ও বাংলাদেশ জুট স্পিনিং অ্যাসোসিয়েশন (BJSA) একসাথে টেক্সটাইল ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে চিঠি লিখে কাঁচা পাটের সঞ্চিত স্টক যুক্তিসঙ্গত মূল্যে মুক্তি, গুদামজাত পাটের সঞ্চয় রোধ এবং মিলগুলোকে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে শিল্পের ব্যাপক বন্ধ অবশ্যম্ভাবী হবে।

যদি বন্ধের হুমকি বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশের জুট উৎপাদন শূন্যে নেমে যাবে, যা রপ্তানি আয় এবং কর্মসংস্থান উভয়ই প্রভাবিত করবে। জুট শিল্পে প্রায় ১.৫ লক্ষ কর্মীর সরাসরি জড়িততা রয়েছে; বন্ধের ফলে এই কর্মশক্তি ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হবে।

অধিকন্তু, জুট পণ্য দেশের রপ্তানি পোর্টফোলিওতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে; বন্ধের ফলে রপ্তানি আয় হ্রাস পাবে এবং বাণিজ্য ঘাটতি বাড়বে। শিল্পের এই ধাক্কা সরবরাহ শৃঙ্খলায় ব্যাঘাত ঘটিয়ে সংশ্লিষ্ট সাপ্লাই চেইন, যেমন পাটের গুঁড়ো ও প্যাকেটিং শিল্পকেও প্রভাবিত করবে।

সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক্সপোর্ট পলিসি ২০২৪-২৭-এ পরিবর্তন এনে কাঁচা পাটকে “শর্তসাপেক্ষ রপ্তানি” তালিকায় স্থানান্তর করেছে। এর ফলে রপ্তানির আগে অনুমোদন প্রয়োজন, যা পাটের রপ্তানি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহের চাপ বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি সরকার দ্রুত সঞ্চিত পাটের মুক্তি এবং হোল্ডিংসের ওপর নিয়ন্ত্রণ না আরোপ করে, তবে দাম আরও বাড়তে পারে এবং শিল্পের পুনরুদ্ধার দীর্ঘ সময় নিতে পারে। তদুপরি, আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের চাহিদা স্থিতিশীল থাকলেও দেশীয় ঘাটতি রপ্তানি সক্ষমতা হ্রাস করবে।

সারসংক্ষেপে, কাঁচা পাটের ঘাটতি ও দামের অস্বাভাবিক উত্থান জুট শিল্পের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছে। সরকারী হস্তক্ষেপের গতি ও পরিধি নির্ধারণ করবে শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং দেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান সুরক্ষায় কতটা প্রভাব ফেলবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments