মঙ্গলবার বিকাল প্রায় ১১:৩০ টায় কক্সবাজারের টেকনাফ জেলায় নাফ নদীর সীমান্তে গুলিবর্ষণ ঘটে, যার ফলে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দুই কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়। শিকারের লক্ষ্য ছিল না, বরং তারা নদীর ধারে মাছ ধরতে গিয়েছিল। গুলির উৎস হিসেবে আরাকান আর্মি সদস্যদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনা স্থানটি নাফ নদীর জিমংখালী ও কাঞ্জর পাড়ার মাঝামাঝি, যেখানে নৌকা চালিয়ে মাছ ধরা সাধারণ কাজ। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ পরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, গুলি ছোড়া হয় সীমান্ত পারাপারের সময়। তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ কিশোরদের দ্রুতই উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালংস্থ এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
গুলিবিদ্ধ কিশোরদের পরিচয় প্রকাশিত হয়েছে। প্রথমজন হলেন টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জর পাড়ার বাসিন্দা মো. সোহেল, বয়স ষোলো, যিনি শেখ কামালের পুত্র। দ্বিতীয়জন হলেন একই এলাকার মো. ওবায়দুল্লাহ, উনিশ বছর বয়সী, মো. ইউনুসের পুত্র। দুজনই স্থানীয়দের মতে মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ গুলির শিকার হয়।
পুলিশের মতে, গুলি ছোড়া গোষ্ঠী মিয়ানমারের বিদ্রোহী আরাকান আর্মি, যারা সীমান্তে অস্ত্র চালু রাখে। গুলির সঠিক দিক ও সময় সম্পর্কে তদন্ত চলমান, তবে প্রাথমিক তথ্য থেকে স্পষ্ট যে গুলি সরাসরি কিশোরদের দিকে লক্ষ্য করে করা হয়। গুলিবিদ্ধদের শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
আহত কিশোরদের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে গুলির ক্ষত গুরুতর হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সোহেল ও ওবায়দুল্লাহ উভয়েই শল্যচিকিৎসা ও রক্ত সঞ্চালন পেয়েছেন। বর্তমানে তারা হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় রিকভারি পর্যায়ে রয়েছে।
এই ঘটনার পূর্বে, ১২ জানুয়ারি টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্তে আরাকান আর্মির গুলিতে ১১ বছর বয়সী সুমাইয়া হুজাইফা গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকে সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সীমান্তে গুলিবর্ষণ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র নজরদারি চালু রয়েছে। পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জের মতে, গুলি চালানো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের গ্রেফতার করা হবে।
গুলিবর্ষণ সংক্রান্ত তদন্ত দ্রুততর করার জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে গুলির উৎস, গুলি চালানোর সময়ের রেকর্ড এবং গুলিবিদ্ধদের অবস্থান যাচাই করা হবে। প্রমাণ সংগ্রহের পর মামলাটি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
অধিকন্তু, সীমান্তে চলমান গুলিবর্ষণকে রোধ করার জন্য উভয় দেশের নিরাপত্তা সংস্থা সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে, সীমান্তে অবৈধ অস্ত্র প্রবাহ বন্ধ করতে এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে; বিশেষ করে নদীর ধারে মাছ ধরতে যাওয়া বা অন্যান্য কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সময় সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকায় প্রবেশ না করা উচিত। নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চললে অনাবশ্যক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
এই ঘটনার পরবর্তী আদালত ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করবে। বর্তমানে কিশোরদের চিকিৎসা অবস্থা স্থিতিশীল, তবে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া চলমান। স্থানীয় সমাজের সমবেত সহায়তা ও প্রার্থনা কিশোরদের দ্রুত সুস্থতার জন্য কামনা করা হচ্ছে।



