20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলানিরাপত্তা উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ বিশ্বকাপ সহ-আয়োজকত্বে বিতর্ক উন্মোচিত

নিরাপত্তা উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ বিশ্বকাপ সহ-আয়োজকত্বে বিতর্ক উন্মোচিত

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকত্ব নিয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের ফলে হোস্টিং থেকে প্রত্যাহারের সম্ভাবনা সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। ফিফা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন উঠেছে যে, ফেডারেল স্তরে চলমান সহিংসতা এবং রাস্তায় সৃষ্ট অশান্তি কি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বড় ক্রীড়া ইভেন্টের জন্য দেশকে উপযুক্ত করে তুলবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ বিশ্বকাপ আয়োজনের আকাঙ্ক্ষা দশকেরও বেশি সময় ধরে চালু রয়েছে। ২০১০ সালে ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপের অধিকার রাশিয়া ও কাতারের কাছে হারানোর পরেও দেশটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা শেষমেশ ২০২৬ বিশ্বকাপের অধিকার অর্জনে সফল হয়েছে, যেখানে কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজকত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল সম্প্রদায় দেশীয় স্তরে এই ইভেন্টকে জাতীয় গর্বের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করতে প্রস্তুত হয়েছে। ১৯৯৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ আয়োজনের পর থেকে ৩২ বছর পার হয়ে এখন ফুটবলকে দেশের সাংস্কৃতিক বুননে যুক্ত করার প্রচেষ্টা তীব্রতর হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অন্যান্য ক্রীড়া শাখারও নতুন ফরম্যাট গ্রহণে প্রভাব ফেলেছে। এই প্রবণতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের চিত্রকে উন্নত করার পাশাপাশি স্থানীয় সমাজে ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রসার ঘটিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বাড়ার ফলে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ দর্শকগোষ্ঠী গড়ে তোলার সম্ভাবনা দেখা যায়।

বিশ্বকাপের আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় শহরগুলোতে পর্যটন, হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং অন্যান্য ব্যবসা খাতে উল্লেখযোগ্য আর্থিক লাভের প্রত্যাশা করা হয়। ভক্তদের জন্য নিজ শহর বা নিকটবর্তী স্থানে ম্যাচ দেখার সুযোগও একটি বড় সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই হোস্টিং প্রত্যাহার হলে এইসব সম্ভাব্য সুবিধা হারিয়ে যাবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক ফেডারেল স্তরের সহিংসতা এবং রাস্তায় ঘটমান অশান্তি নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বড় ইভেন্টের সময় ভিড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি চ্যালেঞ্জ, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার ফলে দর্শক, খেলোয়াড় এবং কর্মীদের সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করা কঠিন হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে কিছু বিশ্লেষক যুক্তি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের হোস্টিং থেকে প্রত্যাহার করা দুঃখজনক হলেও যুক্তিযুক্ত হতে পারে। তারা উল্লেখ করেন যে, এমন একটি আন্তর্জাতিক ইভেন্টের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা না হলে তা একটি লজিস্টিক ও রাজনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি করবে, যা পূর্বে কোনো ক্রীড়া ইভেন্টে দেখা যায়নি।

প্রত্যাহারের ফলে ভক্তরা তাদের নিজ শহরে বা নিকটবর্তী স্থানে ম্যাচ দেখার সুযোগ হারাবে, আর শহর ও ব্যবসা ক্ষেত্রেও আর্থিক ক্ষতি হবে। এছাড়া, ফিফা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য একটি নতুন পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে, যা সময় ও সম্পদের অতিরিক্ত ব্যয় বাড়াতে পারে।

সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ বিশ্বকাপ সহ-আয়োজকত্ব নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বিতর্ক তীব্রতর হয়েছে। হোস্টিং বজায় রাখলে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সুবিধা অর্জিত হতে পারে, তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং লজিস্টিক চ্যালেঞ্জকে উপেক্ষা করা যায় না। শেষ পর্যন্ত ফিফা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে যে, যুক্তরাষ্ট্র এই বড় ক্রীড়া ইভেন্টের অংশ হিসেবে থাকবে নাকি না।

৮৮/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: The Guardian – Football
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments