প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস ২০২৬ সালের ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ২৩য় ইন্ডিয়া কনফারেন্সে বক্তা হিসেবে উপস্থিত হবেন। এই দুই দিনের ইভেন্টটি হার্ভার্ডের ছাত্রদের উদ্যোগে পরিচালিত হয় এবং নীতি, একাডেমিয়া, ব্যবসা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের একত্রে এনে ভারতের বৈশ্বিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্য রাখে।
ইন্ডিয়া কনফারেন্সটি প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় এবং ছাত্র-নেতৃত্বাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত, যেখানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভারতের ভবিষ্যৎ গঠন নিয়ে মতবিনিময় হয়। এই বছর কনফারেন্সের থিম “দ্য ইন্ডিয়া উই ইম্যাজিন” হিসেবে নির্ধারিত, যা দেশের মূল্যবোধ, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা নিয়ে গভীর আলোচনার আহ্বান জানায়। থিমের অধীনে পরিচয়, অগ্রগতি এবং বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা ইত্যাদি উপ-থিমগুলোকে কেন্দ্র করে সেশনগুলো সাজানো হয়েছে।
প্রিয়াঙ্কার পাশাপাশি বক্তা তালিকায় লেখক ও সংসদ সদস্য ড. শশি থারু এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশারদ অমিতাভ আচার্যসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অন্তর্ভুক্ত। এই বৈচিত্র্যময় সমাবেশটি নীতি-নির্ধারক, গবেষক, শিল্পপতি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের একত্রে এনে ভারতের বহুমুখী দিকগুলোকে একাধিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করতে সহায়তা করে।
কনফারেন্সের ইতিহাস দুই দশকেরও বেশি সময়ের, যেখানে প্রতিটি বছর বিভিন্ন শাখার বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানিয়ে ভারতের পরিবর্তনশীল পরিপ্রেক্ষিতকে বহুমাত্রিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা দেশের আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি বাড়াতে এবং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে গঠন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাসের এই অংশগ্রহণ তার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় উপস্থিতির একটি স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা। সংস্কৃতি, প্রতিনিধিত্ব এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি সংযুক্ত করে তিনি বিভিন্ন ফোরামে নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করছেন। হার্ভার্ডের মতো শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তার বক্তৃতা তার বহুমুখী ক্যারিয়ারের আরেকটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য।
ইন্ডিয়ান চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে প্রিয়াঙ্কা শীঘ্রই বহুভাষিক ছবি “ভারাণসী”তে ফিরে আসবেন। এই প্রকল্পে তিনি মহেশ বাবু এবং প্রীতিভ্রত সুকুমারনের সঙ্গে কাজ করবেন, এবং ছবির দায়িত্বে রয়েছেন বিশিষ্ট পরিচালক এস.এস. রাজামৌলি।
“ভারাণসী” ছবিটি বিভিন্ন ভাষায় নির্মিত হওয়ায় এটি বিভিন্ন চলচ্চিত্র শিল্পের সংযোগের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মহেশ বাবু এবং প্রীতিভ্রত সুকুমারনের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার কেমিস্ট্রি এবং রাজামৌলির বিশাল স্কেল ও ভিজ্যুয়াল স্টাইলের সমন্বয় চলচ্চিত্রটিকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
প্রকাশের আগে থেকেই এই ছবিটি শিল্পজগতের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি তিনটি প্রধান দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের বড় নামকে একত্রিত করেছে। ভক্তদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়ছে যে ছবিটি সাংস্কৃতিক সমন্বয় এবং গল্পের গভীরতা দুটোই প্রদান করবে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রিয়াঙ্কা “সিটাডেল” সিরিজের দ্বিতীয় সিজনের উৎপাদন শেষের দিকে রয়েছে। এই সিরিজে তিনি উচ্চপ্রযুক্তি গোয়েন্দা চরিত্রে ফিরে আসছেন, যা তার গ্লোবাল শোয়িং রেঞ্জকে আরও প্রসারিত করছে।
সিটাডেল সিরিজটি তার গতিশীল গল্প এবং আন্তর্জাতিক দর্শকের মধ্যে জনপ্রিয়তার জন্য পরিচিত, এবং প্রিয়াঙ্কার চরিত্রটি শোয়ের অন্যতম মূল আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত। সিজন ২-এ তার উপস্থিতি শোয়ের ধারাবাহিকতা এবং গ্লোবাল স্ট্রিমিং বাজারে তার অবস্থানকে দৃঢ় করবে।
এইসব প্রকল্পের সমন্বয়ে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস চলচ্চিত্র, স্ট্রিমিং এবং আন্তর্জাতিক ফোরামের মধ্যে সমতা বজায় রেখে তার ক্যারিয়ারকে বহুমুখীভাবে গড়ে তুলছেন। হার্ভার্ডে বক্তৃতা, বহুভাষিক চলচ্চিত্র এবং বিশ্বব্যাপী স্ট্রিমিং সিরিজের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছেন এবং ভারতের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরছেন।
প্রিয়াঙ্কার এই বহুমুখী অংশগ্রহণের ফলে তিনি কেবল নিজের শিল্পী পরিচয়কে সমৃদ্ধ করছেন না, বরং ভারতীয় সংস্কৃতির বৈশ্বিক প্রভাবকে আরও দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করছেন। ভবিষ্যতে তার কাজের দিকনির্দেশনা কী হবে তা দেখার জন্য শিল্পজগতের চোখ উন্মুক্ত থাকবে।



