বাঙ্গালাদেশ জামাত‑ই‑ইসলামি তার বরগুনা জেলা শাখার সহকারী সচিব মোহাম্মদ শামীম আহসানকে ডিইউসিইউ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন) সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের পর সব পার্টি পদ থেকে বাদ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি বরগুনা জেলার জামাতের আমীর মাওলানা মোহিবুল্লাহ হরুনের স্বাক্ষরিত চিঠি মাধ্যমে জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শামীম আহসান শনিবারের দিন পাথরঘাটা উপজেলা, কাটা খালি এলাকায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী র্যালিতে “অবিবেচক ও আপত্তিকর” মন্তব্য করেন, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিইউসিইউর বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর অনুভূতিকে আঘাত করে।
র্যালিটি ডিইউসিইউকে “মাদক ও পতিতার গুহা” বলে বর্ণনা করে, এবং নির্বাচনের পর ইসলামী ছাত্রশিবিরের হস্তক্ষেপে এই সংস্থা পরিবর্তিত হয়েছে বলে দাবি করেন। তার বক্তব্যের সময় তিনি বরগুনা-২ আসনের জামাতের প্রার্থী ডঃ সুলতান আহমেদের সমর্থনে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন।
এই বক্তৃতার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক নিন্দা পায়। বিভিন্ন মিডিয়া সংস্থা ঘটনাটি তুলে ধরেছে, আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন মন্তব্যকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছে। ডিইউসিইউর নেতৃবৃন্দও শামীম আহসানের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়েরের হুমকি জানিয়ে দেন।
বিরোধের পর শামীম আহসান রবিবার রাত ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, তার মন্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল ২০১৯ সালের ডিইউসিইউ নির্বাচনে কিছু চ্যাট্রা লীগ নেতার অভিযোগিত দুর্নীতির দিকে ইঙ্গিত করা, যা তিনি মিডিয়ায় বিভিন্ন সময়ে দেখেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, চ্যাট্রা লীগ (বিএসিএল) ডিইউসিইউকে মাদক, জবরদস্তি এবং অন্যান্য অনৈতিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তরিত করতে ব্যবহার করেছে। এসব অভিযোগ পূর্বে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
শামীম আহসান বলেন, ২০২৫ সালের ডিইউসিইউ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থিত প্যানেল জয়লাভের পর ছাত্রসংগঠনটি নতুন রূপ ধারণ করেছে এবং পূর্বের অবনতি থেকে মুক্তি পেয়েছে। তবে তার এই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিইউসিইউ নেতারা তার মন্তব্যকে অবমাননাকর বলে গণ্য করে, এবং আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
জামাতের উচ্চতর নেতৃত্ব শামীম আহসানের মন্তব্যকে “সামাজিক সংবেদনশীলতা ভঙ্গ” এবং “শিক্ষার্থী সম্প্রদায়ের গৌরব হানি” হিসেবে বিবেচনা করে, তাই তাকে সকল পার্টি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এমন মন্তব্য ভবিষ্যতে পার্টির সুনাম ও ভোটারদের আস্থা ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
এই ঘটনার ফলে জামাতের রাজনৈতিক অবস্থানে চাপ বাড়তে পারে, বিশেষত আসন্ন স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য পার্টি কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, ডিইউসিইউ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এই ধরনের মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নীতি গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, শামীম আহসানের ডিইউসিইউ সংক্রান্ত বিতর্কিত বক্তব্যের পর জামাত তাকে পার্টি পদ থেকে বাদ দিয়েছে, তিনি ভিডিও মাধ্যমে ক্ষমা চেয়েছেন, এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিইউসিইউ নেতারা আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এই ঘটনা জামাতের রাজনৈতিক চিত্র ও শিক্ষার্থী সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পর্কের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।



