কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদের তীরে ২৭ জানুয়ারি দুপুরে মিয়ানমার সীমান্তের দিকে থেকে আরাকান আর্মির গুলিবর্ষণ ঘটেছে। গুলির লক্ষ্য ছিল নৌকায় মাছ ধরতে আসা দুই কিশোর জেলে, যাদের গুলি করে আহত করা হয়। ঘটনায় আহত জেলেরা হলেন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজরপাড়া থেকে ১৬ বছর বয়সী মো. সোহেল এবং একই ইউনিয়নের ওয়ানুস থেকে ১৭ বছর বয়সী মো. ওবাইদুল্লাহ।
মাছ ধরতে নৌকায় চড়ে থাকা জেলেরা গুলির শিকার হওয়ার মুহূর্তে স্থানীয় জেলেরা জানান, আরাকান আর্মির সদস্যরা প্রায় দশ থেকে পনেরো রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলিবর্ষণটি নাফ নদের হোয়াইক্যং ঝিমংখালী এলাকার সংলগ্ন অংশে ঘটেছে, যেখানে জেলেরা নৌকা চালিয়ে মাছ ধরছিল। গুলির ফলে সোহেল ও ওবাইদুল্লাহ উভয়েই গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
আহত জেলেদের অবস্থা দ্রুত স্থিতিশীল করার জন্য নিকটস্থ কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় জেলেরা জানান, গুলিবর্ষণের পরই তারা নৌকা থামিয়ে আহতদের তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে পৌঁছে দেয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দুজনেরই ক্ষতগুলো পরিষ্কার করা হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
গুলিবর্ষণের সময় জেলেরা মিয়ানমার সীমান্তের ঠিক বাইরে নাকি বাংলাদেশের জলসীমার ভিতরে ছিলেন, এ বিষয়ে এখনো স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি। সীমান্তের নিকটবর্তী এই এলাকায় কখনও কখনও সশস্ত্র গোষ্ঠীর গুলিবর্ষণ ঘটতে দেখা যায়, তবে এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট অবস্থান নির্ধারণে অতিরিক্ত তদন্ত প্রয়োজন।
হোয়াইক্যং পুলিশের ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই খোকন কান্তি রুদ্র ঘটনাটি জানিয়ে বলেন, দুই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে গুলিবর্ষণের সূত্র অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে ঘটনাস্থলে তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। দলটি গুলিবর্ষণের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা, গুলি ছোড়া অস্ত্রের ধরণ এবং গুলিবর্ষণের সময় জেলেদের অবস্থান নির্ধারণে কাজ করবে। এছাড়া, সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পেট্রোলিং চালু করার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, আরাকান আর্মি একটি বিদেশি সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও গুলিবর্ষণের জন্য দায়ী হতে পারে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, সীমান্ত পারাপার করে গুলিবর্ষণ করা হলে আন্তর্জাতিক সীমানা লঙ্ঘনের অভিযোগও আরোপ করা যেতে পারে।
আহত জেলেদের পরিবার এখনো শোকাহত, তবে তারা জানিয়েছে যে চিকিৎসা সেবা যথাযথভাবে প্রদান করা হচ্ছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ধরনের গুলিবর্ষণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং নিরাপদ মাছ ধরা ও জীবিকায় বাধা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
অধিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুলিবর্ষণের দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা জানাবে। বর্তমানে, ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সাময়িকভাবে অতিরিক্ত গার্ড স্থাপন করা হয়েছে।
এই ঘটনা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হিংসা ও গুলিবর্ষণের ঝুঁকি পুনরায় তুলে ধরেছে। সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখনো এই ধরনের হুমকি মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলছে।



