শি জিনপিং মঙ্গলবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অফ দ্য পিপল-এ ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেটেরি অর্পোর সঙ্গে বৈঠক করে চীন জাতিসংঘ-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষা করতে ইচ্ছুক তা প্রকাশ করেন। এই সাক্ষাৎকারটি চীনের বহুপাক্ষিকতা ও বৈশ্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার নীতির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের সময় শি জিনপিং উল্লেখ করেন যে চীন ফিনল্যান্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে জাতিসংঘকে কেন্দ্রীয় করে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করবে। তিনি এই বক্তব্যটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিটিভিটিভি’র রিডআউটে প্রকাশিত করেন।
এই মন্তব্যের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক “বোর্ড অফ পিস” পরিকল্পনা রয়েছে, যা জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে বলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মাসে তার নতুন শান্তি সংস্থা চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন।
চীনকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই উদ্যোগে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তবে চীন এখনো তার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেনি। শি জিনপিং তবুও আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলায় জাতিসংঘের ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করে তার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
পেটেরি অর্পো বৈঠকে উল্লেখ করেন যে তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিষয় এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করার অপেক্ষায় আছেন। তিনি ফিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে আলোচনার গুরুত্ব জোর দিয়ে বলেছিলেন।
অর্পোর চার দিনের বেইজিং সফরটি সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমা দেশগুলোর চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার ধারাবাহিকতা। কানাডার মার্ক কার্নি এবং ফ্রান্সের ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ ইতিমধ্যে কয়েক সপ্তাহ আগে বেইজিংয়ে সফর করেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারও বুধবার চীনের রাজধানীতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছেন, যা ফিনল্যান্ডের সফরের পরপরই ঘটবে। এই ধারাবাহিক ভিজিটগুলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্থির নীতি থেকে পশ্চিমা দেশগুলোকে বিচ্যুত করে চীনের সঙ্গে সংলাপ বাড়াতে চায়।
তবু বেইজিং এবং হেলসিঙ্কি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও আর্কটিক অঞ্চলে প্রভাবের প্রশ্নে একমত নয়। ফিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অ্যান্টি হাক্কানেন নভেম্বর মাসে উল্লেখ করেন যে চীন রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে ব্যাপকভাবে অর্থায়ন করছে।
চীন, যা রাশিয়ার প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার, যুদ্ধ সম্পর্কে নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণের দাবি করে এবং মস্কোর আক্রমণকে কখনোই নিন্দা করেনি। এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে রয়েছে।
ন্যাটোর প্রধানমন্ত্রীর মার্ক রুটে ফিনল্যান্ড এবং অন্যান্য আর্কটিক দেশগুলোকে রাশিয়া ও চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব থেকে রক্ষা করার জন্য সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা কৌশল গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
শি জিনপিংয়ের জাতিসংঘ-কেন্দ্রিক বার্তা ফিনল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন দিক দেখাতে পারে, তবে একই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের “বোর্ড অফ পিস” উদ্যোগের সঙ্গে চীনের সম্ভাব্য দ্বন্দ্বকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে ফিনল্যান্ডের চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোতে নতুন ভারসাম্য সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যতে জাতিসংঘের ভূমিকা পুনর্বিবেচনার দিকে ধাবিত করতে পারে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই সম্পর্কের অগ্রগতি সীমিত থাকতে পারে।



