পটুয়াখালীর ৩ নম্বর সংসদীয় এলাকা, চর বোরহান ইউনিয়নের পাগলা বাজারে গতকাল সন্ধ্যা প্রায় আটটায় ভিপি নূর (নুরুল হক নূর) ও স্বাধীন প্রার্থী হসন মামুনের সমর্থকদল একে অপরের ক্যাম্পেইন অফিসে আক্রমণ করে। দু’টি অফিস পার্শ্ববর্তী অবস্থানে থাকায় উত্তেজনা বাড়ে এবং শেষমেশ লাঠি ও লোহার দণ্ড দিয়ে হিংসাত্মক মোকাবিলা হয়।
ডাশমিনা থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ হাসনাইন পারভেজ জানান, ঘটনাস্থলে গৃহীত ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করা হয় এবং বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংঘর্ষের সময় কোনো গুলিবর্ষণ বা গাড়ি চালনা করা হয়নি, তবে লাঠি ও লোহার দণ্ড ব্যবহার করে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভিপি নূরের গোনো অধিকার পরিষদের সভাপতি ও হসন মামুনের ক্যাম্পেইন অফিস দুটোই পাগলা বাজারের একই রাস্তায় অবস্থিত, যা উভয় দলের সমর্থকদের জন্য সহজে প্রবেশযোগ্য করে তুলেছিল। এই নিকটতা থেকেই ক্যাম্পেইন কার্যক্রমের সময় পারস্পরিক বিরোধের সূচনা হয়।
সংঘর্ষে লাঠি, লোহার দণ্ড এবং অন্যান্য তীক্ষ্ণ বস্তু ব্যবহার করা হয়। উভয় দিকের সমর্থকরা একে অপরের ওপর আক্রমণ চালিয়ে অফিসের দরজা, জানালা এবং ভেতরের আসবাবপত্রে ক্ষতি করে। গোনো অধিকার পরিষদের পটুয়াখালি জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সিকদার জানান, টেবিল, চেয়ার এবং অন্যান্য ফার্নিচার ভেঙে ফেলা হয়েছে।
শাহ আলম সিকদার আরও জানিয়েছেন, গোনো অধিকার পরিষদের তিনজন সমর্থক এই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন। আহতদের নাম রাকিবুল ইসলাম জুয়েল (৩৫ বছর), মোঃ রফিক (৪০ বছর) এবং রিফাত (২৮ বছর)। আহতদের দ্রুত ডাশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে চিকিৎসা চলমান। গোনো অধিকার পরিষদ ঘটনাস্থলে জরুরি প্রেস কনফারেন্সের আহ্বান জানিয়ে গ্যালাচিপা অফিসে বিকেলবেলায় মিডিয়াকে বিস্তারিত জানাবে। এই কনফারেন্সে পার্টি নেতারা সংঘর্ষের কারণ, দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্বাধীন প্রার্থী হসন মামুনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার ক্যাম্পেইন অফিসে ভিপি নূরের সমর্থকরা হঠাৎ আক্রমণ করে অফিসের জানালা ভেঙে ফেলে এবং তিনজন সমর্থক আহত হয়েছে। মামুনের দল আহতদের নাম প্রকাশ করতে পারেনি, তবে তারা উল্লেখ করেছে যে আহতরা তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা গ্রহণ করেছে।
এ পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়নি, তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সনাক্তকরণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অফিসার‑ইন‑চার্জ জানান, তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই সংঘর্ষ পটুয়াখালীর নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। উভয় দলের সমর্থকদের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়ার ফলে আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি বাড়বে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এ ধরনের হিংসা ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তন করতে পারে এবং নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
পুলিশের তত্ত্বাবধানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে অতিরিক্ত সতর্কতা ও পর্যবেক্ষণ দাবি করা হচ্ছে। উভয় দলকে আহ্বান জানানো হয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য সকল ধরণের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে।



