28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিযুক্তরাজ্যে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ ‘অতিদরিদ্র্য’ে, বাংলাদেশ‑পাকিস্তান সম্প্রদায় বিশেষভাবে প্রভাবিত

যুক্তরাজ্যে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ ‘অতিদরিদ্র্য’ে, বাংলাদেশ‑পাকিস্তান সম্প্রদায় বিশেষভাবে প্রভাবিত

জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশন (JRF) ২৭ জানুয়ারি প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে, যুক্তরাজ্যের দারিদ্র্যের অবস্থা গত ত্রিশ বছরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে যে প্রায় ৬.৮ মিলিয়ন মানুষ ‘অতিদরিদ্র্য’ সীমার মধ্যে বসবাস করছেন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় দশ শতাংশের সমান। এই তথ্যটি যুক্তরাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের গভীরতা তুলে ধরে।

সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার সামান্য কমলেও, অতিদরিদ্র পরিবারের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এখন দশ শতাংশের কাছাকাছি। ‘অতিদরিদ্র্য’ বলতে এমন পরিবারকে বোঝায়, যাদের বাসস্থানের খরচ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট আয় দেশের মধ্যম আয়ের ৪০ শতাংশের নিচে নেমে আসে। উদাহরণস্বরূপ, দুই সন্তানসহ একটি দম্পতির জন্য এই সীমা বছরে প্রায় ১৬,৪০০ পাউন্ডের সমান।

শিশুদারিদ্র্যের মাত্রা বিশেষভাবে উঁচু, বর্তমানে প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন শিশু দারিদ্র্যের শিকারে। তিন বছর ধারাবাহিকভাবে শিশুদারিদ্র্য বৃদ্ধি পেতে থাকায়, লেবার সরকারকে এই সমস্যার সমাধানে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। সরকার ইতিমধ্যে দুই শিশুর সীমা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে JRF এই পদক্ষেপকে যথেষ্ট বলে মনে করে না।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে কিছু জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মধ্যে দারিদ্র্যের মাত্রা জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সম্প্রদায়ের মধ্যে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলো লন্ডন ও উত্তর ইংল্যান্ডের শিল্পাঞ্চলে অধিকাংশ সময় বসবাস করে, যেখানে মুদ্রাস্ফীতি ও বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির প্রভাব তীব্রভাবে অনুভূত হয়।

অক্ষম ব্যক্তিরাও অর্থনৈতিক সংকটের সবচেয়ে বেশি শিকার। জেএআরএফের প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতিবন্ধী পরিবারগুলোকে ঘরবাড়ি ও মৌলিক পণ্যের দামের উর্ধ্বগতি বিশেষভাবে কঠিন করে তুলছে।

বিগ ইস্যু সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা জন বার্ড এই পরিস্থিতিকে “সমাজের জন্য অত্যন্ত খারাপ খবর” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বাড়ি সংকট এবং দৈনন্দিন পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ার ফলে নিম্ন আয়ের মানুষদের জীবনের মান হুমকির মুখে পড়েছে।

সরকারের দুই শিশুর সীমা বাতিলের সিদ্ধান্তের পরেও, JRF সতর্ক করে যে শিশুদারিদ্র্য সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত নীতি প্রয়োজন। বর্তমান নীতি শুধুমাত্র তাত্ক্ষণিক সমস্যার সমাধান দেয়, তবে মূল কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধান না করলে দারিদ্র্যের হার আবার বাড়তে পারে।

দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় অংশ লন্ডন ও উত্তর ইংল্যান্ডের শিল্পকেন্দ্রিক এলাকায় বসবাস করে, যেখানে মুদ্রাস্ফীতি তাদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। যদি দ্রুত ও কার্যকর অর্থনৈতিক সংস্কার না আনা হয়, তবে অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আগামী বছরগুলোতে আরও বৃদ্ধি পাবে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।

এই গবেষণা যুক্তরাজ্যের সামাজিক নীতি নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে কাজ করবে এবং সরকারকে দারিদ্র্য মোকাবিলায় আরও দৃঢ় ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments