বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান আজ ঢাকা সেক্রেটারিয়েটের সরকারি ক্রয় উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকের পর জানালেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ মাত্র ১৫ দিন বাকি থাকায় নতুন সরকারি কর্মচারীর বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
বৈঠকটি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হলেও, বৈঠকের সমাপ্তিতে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি; পরিবর্তে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানই বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বেতন কাঠামোর প্রস্তাবনা সংক্রান্ত প্রতিবেদন কেবল গ্রহণ করা হয়েছে, তবে তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার থেকে এখনও পাওয়া যায়নি।
বেতন কমিশনের প্রস্তাবনা দশ থেকে পনেরো বছর ধরে সরকারি কর্মচারীদের দাবি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। এই দাবির ভিত্তিতে গঠিত কমিশন তার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, তবে বর্তমান সরকার সেই প্রতিবেদনকে তৎক্ষণাৎ কার্যকর করার সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
ফাওজুল কবির খান স্পষ্ট করে বলেন, কমিশনের সুপারিশগুলো সরাসরি বাস্তবায়ন হবে না; বরং মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে সুপারিশগুলো আর্থিক সক্ষমতা ও অন্যান্য দিক থেকে পর্যালোচনা করা হবে। এই কমিটি পরবর্তী সরকারকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সুপারিশ উপস্থাপন করবে।
কমিটি যদি পুরোপুরি সুপারিশগুলো গ্রহণ করে, তবে সর্বোচ্চ সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা হতে পারে। তবে বাস্তবে বেতন কাঠামো একসাথে নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে, যাতে সরকারের আর্থিক চাপ কমে এবং অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো যায়।
ইন্টারিম সরকারের সীমিত সময়সীমা বিবেচনা করে, বর্তমান প্রশাসন পরবর্তী সরকারের জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজের দিকে মনোনিবেশ করেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বৃহৎ পরিকল্পনা, বহুমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য কৌশলগত প্রকল্পের খসড়া তৈরি করা হয়েছে, যা পরবর্তী সরকার বাস্তবায়ন করবে।
বেতন কমিশনের বিষয়টিও এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সরকার কর্মচারীদের মধ্যে অস্থিরতা বা আন্দোলন রোধ করতে এবং নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় কোনো অচলাবস্থা না ঘটাতে এই পদক্ষেপটি গ্রহণ করেছে।
উল্লেখযোগ্য যে, সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতি ও বেতন কমিশনের সুপারিশের মধ্যে সরাসরি কোনো সংযোগ নেই; উভয় বিষয় আলাদা ধারা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন স্থগিত রাখবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দায়িত্ব পরবর্তী সরকারে অর্পণ করবে। এই নীতি অনুসরণে সরকার কর্মচারীর স্বার্থ রক্ষা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়েছে।



