আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব রটারড্যামের হাবার্ট বাল্স ফান্ড (HBF) সম্প্রতি HBF+Brazil: Co-development Support নামের নতুন উদ্যোগের প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত দশটি ব্রাজিলীয় ফিকশন চলচ্চিত্র প্রকল্পের তালিকা প্রকাশ করেছে। এই প্রকল্পগুলোকে সমর্থন জানাতে ফান্ড প্রত্যেকটি প্রকল্পকে €10,000 (প্রায় $11,880) অনুদান প্রদান করবে।
নির্বাচিত ছবিগুলোর থিমে অদ্ভুত ও কল্পনাপ্রবণ উপাদান রয়েছে; উদাহরণস্বরূপ, কিছু গল্পে ইউএফও ও এলিয়েনের সাক্ষাৎ, এক মা যাকে অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, ঔপনিবেশিক সম্রাটের রূপকথা, আর তৃতীয় চোখের সঙ্গে র্যাপ ব্যাটল অন্তর্ভুক্ত। এসব বিষয়বস্তু ব্রাজিলের সমসাময়িক সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে নতুন দৃষ্টিকোণ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই পাইলট প্রকল্পের অংশীদারিত্বে যুক্ত হয়েছে স্পসিনে (Spcine), রিওফিল্ম (RioFilme), প্রোজেক্টো পারাদিসো (Projeto Paradiso) এবং ব্রাজিলের পর্যটন বোর্ড এমব্রাটুর (Embratur)। এমব্রাটুরকে নতুন অংশীদার হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে, যা চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক প্রচার ও পর্যটন সংযোগকে শক্তিশালী করবে।
প্রতিটি চলচ্চিত্রের পরিচালককে দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারের মতো কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং সঙ্গে একটি ব্রাজিলীয় প্রোডাকশন কোম্পানি যুক্ত থাকতে হবে। এই শর্তগুলো নিশ্চিত করে যে প্রকল্পগুলোতে যথাযথ পেশাদারিত্ব ও স্থানীয় শিল্পের সমর্থন থাকবে।
অনুদানের বণ্টন ভৌগোলিকভাবে সমানভাবে করা হয়েছে; সাও পাওলো ও রিও ডি জেনেইরোর সঙ্গে যুক্ত চারটি করে প্রকল্পকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সাও পাওলো বা রিও ডি জেনেইরোর প্রযোজকরা অন্য শহরের পরিচালক সঙ্গে সহযোগিতা করলে তা আরেকটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
প্রোজেক্টো পারাদিসোর নির্বাহী পরিচালক জোসেফিন বৌর্গোয়া উল্লেখ করেছেন, এই সহযোগিতা ব্রাজিলীয় চলচ্চিত্রকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়াবে। তিনি আরও বলেন, হাবার্ট বাল্স ফান্ডের দীর্ঘমেয়াদী আগ্রহের ফলে ব্রাজিলের চলচ্চিত্র শিল্পের গ্লোবাল দৃশ্যপটে অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে।
ফান্ডের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ব্রাজিলের সিনেমা বাজারের সাম্প্রতিক উত্থান। “I’m Still Here” এবং “The Secret Agent” মত পূর্বের সফল প্রকল্পগুলো আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রশংসা পেয়েছে, যা এই নতুন অনুদানকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।
এই দশটি প্রকল্পের প্রত্যেকটি এখনো প্রি-প্রোডাকশন পর্যায়ে রয়েছে এবং অনুদান পাওয়ার পর দ্রুত শুটিং ও পোস্ট-প্রোডাকশন কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফান্ডের সহায়তা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীল স্বাধীনতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাছাই প্রক্রিয়ায় ব্রাজিলের বিভিন্ন শহরের চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দেশের চলচ্চিত্র ইকোসিস্টেমকে আরও সমন্বিত ও বৈচিত্র্যময় করে তুলবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় গল্পগুলোকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে উপস্থাপন করা সহজ হবে।
হাবার্ট বাল্স ফান্ডের এই নতুন মডেল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সহযোগিতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এই ধরনের পার্টনারশিপে যুক্ত হতে পারে, যা গ্লোবাল সিনেমার মানোন্নয়নে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, রটারড্যামের হাবার্ট বাল্স ফান্ডের এই পাইলট প্রকল্প ব্রাজিলীয় চলচ্চিত্রের সৃজনশীলতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। অনুদান, অংশীদারিত্ব ও বৈচিত্র্যময় থিমের সমন্বয়ে এই দশটি চলচ্চিত্র ভবিষ্যতে বিশ্ব চলচ্চিত্র মঞ্চে নতুন আলো ছড়াবে।



