চট্টগ্রাম‑২ আসন থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপি প্রার্থী সারওয়ার আলমগীরের নামांकन পত্র স্বীকার করতে ইলেকশন কমিশনকে হাইকোর্টের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত এই নির্দেশের মাধ্যমে তার প্যাকেটের চিহ্ন হিসেবে ধানের গাঁথা ব্যবহার করার অনুমতি নিশ্চিত করেছে।
হাইকোর্টের এই আদেশের মূল বিষয় হল ইসিকিউ কর্তৃক সারওয়ার আলমগীরের নামांकन প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তকে স্থগিত করা এবং কমিশনকে ব্যাখ্যা চাওয়া যে, কেন এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করা উচিত নয়।
বিচারক ফাহমিদা কাদের ও বিচারক মো. আশিফ হাসান সমন্বিত বেঞ্চ এই রায় প্রদান করে, যা সারওয়ার আলমগীরের লিখিত আবেদনপত্রের পর্যালোচনার ফলস্বরূপ গৃহীত হয়েছে। আদালত তার রায়ে ইসিকিউকে একটি রুল জারি করে, যাতে কমিশনকে তার প্রত্যাখ্যানের কারণগুলো স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে।
সারওয়ার আলমগীরের নামांकन প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে দায়ের করা হাইকোর্টের রিট লিখিত পিটিশনটি মূলত ইসিকিউয়ের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, নামांकन প্রত্যাখ্যানের পেছনে কোনো আইনী ভিত্তি নেই এবং তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ন করে।
শুনানিতে সারওয়ার আলমগীরের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম ও মো. রুহুল কুদ্দুস কাজাল উপস্থিত ছিলেন। উভয় আইনজীবী আদালতে ইসিকিউয়ের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং নামांकन স্বীকৃতির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।
ইসিকিউ পূর্বে যে কারণগুলো উল্লেখ করে নামांकन প্রত্যাখ্যান করেছিল, সেগুলো এখন হাইকোর্টের রুলের আওতায় পুনর্বিবেচনা করা হবে। যদিও নির্দিষ্ট কারণগুলো প্রকাশিত হয়নি, তবে সাধারণত নামांकन প্রত্যাখ্যানের পেছনে প্রার্থীর আর্থিক অবস্থা, নথিপত্রের পূর্ণতা বা নির্বাচনী চিহ্নের ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয় থাকে।
একই সময়ে, ২২ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জুডিশিয়াল একটি পূর্বের আদেশ বাতিল করে, যা হাইকোর্টের একটি রায়কে স্থগিত করেছিল। ঐ রায়ে সারওয়ার আলমগীরকে ঋণ ডিফল্টের শঙ্কা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, কারণ তিনি প্রিমিয়ার লিজিং নামক আর্থিক সংস্থার সঙ্গে ঋণ পুনর্গঠন সম্পন্ন করেছিলেন।
প্রিমিয়ার লিজিংয়ের সঙ্গে ঋণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় সারওয়ার আলমগীরের আর্থিক দায়িত্বের অবস্থা পরিষ্কার হয়েছে এবং তাই হাইকোর্টের পূর্বের রায় পুনরায় কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে। এই আর্থিক স্বচ্ছতা তার নির্বাচনী যোগ্যতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিএনপি পক্ষের জন্য এই রায়ের অর্থ হল, চট্টগ্রাম‑২ আসনে তার প্রধান প্রার্থীকে আবার নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করা। ধান গাঁথা চিহ্নের অধীনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি হওয়া এখন বাস্তবায়িত হবে।
নির্বাচনের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত থাকায়, ইসিকিউকে দ্রুতই তার রুলের উত্তর প্রদান করতে হবে এবং নামांकन পত্রের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। যদি ইসিকিউ রুলের ভিত্তিতে কোনো আপত্তি না তুলে, তবে সারওয়ার আলমগীরের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে এবং ভোটারদের কাছে তার প্রোগ্রাম উপস্থাপন করতে পারবেন।
অবশিষ্ট সময়ে ইসিকিউয়ের সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা এবং সুপ্রিম কোর্টের ঋণ সংক্রান্ত রায়ের বাস্তবায়ন দুটোই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ। উভয় রায় একসঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দিকে ইঙ্গিত করে, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই রায়ের পরবর্তী ধাপ হিসেবে ইসিকিউকে হাইকোর্টের রুলের উত্তর জমা দিতে হবে এবং নামांकन পত্রের স্বীকৃতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নামांकन স্বীকৃত হলে, সারওয়ার আলমগীরের ক্যাম্পেইন দল দ্রুতই ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরবে।
সারসংক্ষেপে, হাইকোর্টের আদেশ ইসিকিউকে বাধ্য করেছে যাতে সারওয়ার আলমগীরের নামांकन স্বীকৃত হয় এবং তিনি ধান গাঁথা চিহ্নের অধীনে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়বে এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আরও সুগম হবে।



