মো. জসীম উদ্দীন, জামায়াত-এ-ইসলামি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, মঙ্গলবার কাঁঠালবাগান এলাকায় নির্বাচনী সফরে উল্লেখ করেন যে ঢাকা‑১০ আসনে চাঁদাবাজি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, ছোট ও বড় ব্যবসায়ী, জমিদার, গৃহমালিকসহ এই এলাকার সব স্তরের মানুষই এই অবৈধ অর্থ সংগ্রহের শিকার।
প্রার্থী জানান, নতুন বাড়ি নির্মাণের সময় চাঁদাবাজরা নির্দিষ্ট রড, ইট বা সিমেন্টের সরবরাহের শর্তে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে এবং পরে তা নিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। একই রকম চাঁদাবাজি দোকান খুলতে চাওয়া ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রেও দেখা যায়, যেখানে পণ্য সরবরাহের বদলে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়।
জসীম উদ্দীন এই অবৈধ কার্যক্রমকে ক্রনিক সমস্যারূপে চিহ্নিত করে এবং নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন, নিরাপত্তা ও জীবনের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা তার অগ্রাধিকার।
এছাড়া, প্রার্থী এলাকার অন্যান্য জরুরি সমস্যারও উল্লেখ করেন। অল্প বৃষ্টিতে পুরো এলাকা পানির নিচে ডুবে যায়, বিদ্যুৎ সংস্পর্শে এসে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, গ্যাসের তীব্র সংকট রয়েছে এবং চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এসব সমস্যার সমাধান না হলে স্থানীয় জীবনের মান হ্রাস পাবে, তিনি সতর্ক করেন।
প্রার্থী ধ্যানমন্ডি লেকের অব্যবস্থাপনা থেকে রক্ষা করে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, লেকের পরিবেশ রক্ষা, পানির গুণমান উন্নয়ন এবং পার্কের রূপান্তর করা হলে এলাকার বাসিন্দাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সবুজ স্থান তৈরি হবে।
জসীম উদ্দীন উল্লেখ করেন, এই সব সমস্যার সমাধানে সৎ ইচ্ছা, সক্রিয় উদ্যোগ এবং আন্তরিক নেতৃত্বের প্রয়োজন। তিনি বিশ্বাস করেন, এসব উপাদান থাকলে দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব হবে এবং ভোটারদের জীবনমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
ক্যাম্পেইন চলাকালে জামায়াত-এ-ইসলামি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে আহ্বান জানান। এই উপস্থিতি প্রার্থীর সমর্থন ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
প্রার্থীর এই দাবিগুলি নির্বাচনের পূর্বে প্রকাশিত হওয়ায়, ভোটারদের মধ্যে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রত্যাশা বাড়ছে। যদি জসীম উদ্দীন নির্বাচিত হন, তবে তার প্রতিশ্রুতিগুলি স্থানীয় প্রশাসনে নতুন নীতি ও কার্যক্রমের সূচনা করতে পারে, যা ভবিষ্যতে ঢাকা‑১০ আসনের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।



