ভারত এ ও ইইউ ১৭ জানুয়ারি মঙ্গলবারে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিপি) স্বাক্ষরের জন্য একত্রিত হবে। দুই পক্ষের জন্য এই চুক্তি কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের গঠনকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রাখে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত একসাথে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় এক পঞ্চমাংশ ভাগ করে। এই অনুপাত উভয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রভাবকে সমানভাবে তুলে ধরে।
বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৫ শতাংশ ভারত এ ও ইইউতে বসবাস করে। দুই বৃহৎ জনসংখ্যা সমন্বিত হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্য চাহিদা ও সরবরাহ গঠন করে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারত এ ও ইইউর মোট বাণিজ্যিক লেনদেনের মূল্য ১২ হাজার কোটি ইউরো রেকর্ড করেছে। এর মধ্যে ইইউ ভারত এ থেকে ৭১৪০ কোটি ইউরো মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে এবং ৪৮৮০ কোটি ইউরো মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে।
গত দশকে ভারত এ থেকে ইইউর পণ্যের আমদানি ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, আর রপ্তানি ৫৮ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধি উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের দৃঢ়তা ও পারস্পরিক নির্ভরতা নির্দেশ করে।
সেবার ক্ষেত্রে, একই দশকে দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন ২৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেবা খাতের এই তীব্র বৃদ্ধি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি করে।
ইইউ ভারত এয়ের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক সহযোগী হিসেবে রয়ে গেছে। উভয় পক্ষের বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান দেখায় যে ইইউ ভারত এয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও সরবরাহ চ্যানেল উভয়ই।
২০২৪ সালে ইইউর ভারত এতে সরাসরি বিনিয়োগ ১৩,২০০ কোটি ইউরো পৌঁছেছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীর মধ্যে ইইউকে শীর্ষ স্থানে রাখে। এই বিনিয়োগের পরিমাণ উভয় দেশের অর্থনৈতিক সংহতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মঙ্গলবারের আলোচনায় বাণিজ্যের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বহুমুখী বিষয়গুলো চুক্তির পরিধি বিস্তৃত করে।
এই এফটিপি চুক্তিকে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বলা হচ্ছে, কারণ এটি ভবিষ্যতে অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তি স্থাপন করতে পারে।
বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের ফলে ভারত এ ও ইইউর কোম্পানিগুলো নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে, সরবরাহ শৃঙ্খলে দক্ষতা বাড়বে এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হবে।
তবে চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রক বাধা, মানদণ্ডের পার্থক্য এবং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবেলা করা প্রয়োজন হবে। এই চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করা হলে দীর্ঘমেয়াদী পারস্পরিক লাভ নিশ্চিত হবে।



