গাজীপুরের টঙ্গী উপজেলার বনমালা এলাকায় রব-১ দল ২৭ জানুয়ারি বিকেল প্রায় ১১টায় এক গোপন জাল নোট উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস করে তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ জাল টাকা, নোট ছাপানোর যন্ত্রপাতি এবং কয়েকটি কম্পিউটার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
রব-১ দলের পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো নাফিজ বিন জামাল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর বনমালা এলাকায় অভিযান চালানোর কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি ভাড়া বাসায় জাল নোট তৈরির কাজ চালিয়ে আসা একটি চক্রকে লক্ষ্য করে দলটি কাজটি সম্পন্ন করেছে।
অভিযানে আটকে যাওয়া তিনজনের বাসা থেকে বিভিন্ন মূল্যমানের জাল নোট এবং নোট তৈরির কাঁচামাল উদ্ধার করা হয়েছে। তদুপরি, প্রিন্টার, স্ক্যানার, বিশেষ কাগজ, কালি এবং ল্যাপটপসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারদের জাল নোট সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করতে দেখা যায়। নাফিজ বিন জামাল জানান, তদন্তে আরও কোনো সহযোদ্ধা আছে কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
রব-১ দল জানিয়েছে, জাল টাকা উৎপাদন ও বিতরণে জড়িত সকল ব্যক্তি আইনের আওতায় আনা হবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে জাল নোট উৎপাদন, জাল মুদ্রা প্রচার এবং অর্থ পাচার সংক্রান্ত আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হবে।
অভিযানের সময় জাল নোটের মোট পরিমাণ ও তার মূল্য সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ না করা হলেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, জাল মুদ্রার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য এবং দেশের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করছিল।
গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে জাল নোটের উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণও অন্তর্ভুক্ত। জাল নোট তৈরিতে ব্যবহৃত বিশেষ কাগজ ও কালি বিশ্লেষণের জন্য ফরেনসিক ল্যাবের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধের সনাক্তকরণ সহজ হয়।
অভিযানের পর, রাব-১ দল স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত পেট্রোলিং চালু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জানানো হয়েছে, জাল নোটের কোনো লেনদেনের শিকার হলে তা সঙ্গে সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় জানাতে।
গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আদালতে উপস্থাপন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি প্রস্তুত করা হচ্ছে। রাব-১ দল জানিয়েছে, মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানো হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য সব রকম সহযোগিতা করা হবে।
এই ধরণের জাল নোট উৎপাদন চক্রের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তীব্র নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে নাফিজ বিন জামাল জোর দিয়ে বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, জাল মুদ্রা দেশের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে এবং তা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য।
অভিযানের পর, রাব-১ দল স্থানীয় মিডিয়ার সঙ্গে তথ্য শেয়ার করে জনসাধারণকে সচেতন করার চেষ্টা করেছে। জাল নোটের বৈশিষ্ট্য ও সনাক্তকরণের পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে, ভবিষ্যতে এমন অপরাধের শিকার হওয়া থেকে মানুষকে রক্ষা করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, গাজীপুরের টঙ্গীতে এই অভিযান জাল নোট উৎপাদন চক্রকে ধ্বংস করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ এবং প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে দেশের মুদ্রা ব্যবস্থার সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
অপরাধের তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত সন্দেহভাজন বা সহায়ক সংস্থার সন্ধান চালিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে জাল নোটের উৎপাদন ও বিতরণ বন্ধ করতে সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং কঠোর শাস্তি প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা হবে।



