ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি২০ বিশ্বকাপের জন্য ১৫ জনের দল ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে শক্তিশালী ব্যাটসম্যান কুইন্টিন সাম্পসন এবং দ্রুতগতি বোলার শামার জোসেফ অন্তর্ভুক্ত। দুজনই সম্প্রতি আফগানিস্তান সিরিজে অংশগ্রহণের পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রথম সুযোগ পেয়েছেন।
২৫ বছর বয়সী গায়ানার কুইন্টিন সাম্পসন টি২০ আন্তর্জাতিক ডেবিউ করেন দুবাইতে আফগানিস্তান দলের বিরুদ্ধে, যেখানে তিনটি ইনিংসে মোট ৩৫ রান সংগ্রহ করেন। যদিও স্কোর সীমিত, তবে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগে তার পারফরম্যান্স তাকে এই স্কোয়াডে স্থান নিশ্চিত করেছে।
সাম্পসন গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের তৃতীয় শীর্ষ স্কোরারূপে ৯টি ইনিংসে ২৪১ রান তৈরি করেন, যার স্ট্রাইক রেট ১৫১.৫৭। এই আক্রমণাত্মক শৈলী তাকে প্রথম আন্তর্জাতিক কলের যোগ্যতা এনে দেয়, বিশেষত যখন বেশ কিছু মূল খেলোয়াড় সিএ২০ কমিটমেন্টের কারণে অনুপস্থিত ছিলেন।
আফগানিস্তান সিরিজে শাই হোপের মতো ক্যাপ্টেনসহ কিছু শীর্ষ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি দলকে নতুন মুখে পূরণ করতে বাধ্য করে। রস্টন চেজ, একেল হোসেইন এবং শেরফেন রুথারফোর্ড, যারা সেই সিরিজে অংশ নিতে পারেনি, এখন পুনরায় স্কোয়াডে ফিরে এসেছে।
প্রাক্তন ক্যাপ্টেন জেসন হোল্ডার ও রোভম্যান পাওয়েল, পাশাপাশি রোমারিও শেফার্ডও সাম্প্রতিক ম্যাচে বিশ্রাম নেওয়ার পর আবার দলের অংশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতা দলকে ব্যালেন্স প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দ্রুতগতি বোলার শামার জোসেফের বয়স ২৬ বছর, এবং তিনি আফগানিস্তান সিরিজে দু’টি ম্যাচে অংশগ্রহণের পর স্কোয়াডে স্থান পেয়েছেন। ২০২৫ সালের শেষার্ধে তার ক্যারিয়ার কিছুটা অনিয়মিত ছিল, কারণ তিনি ভারত সফর ও বাংলাদেশ ওডিআই সিরিজে আঘাতের কারণে অংশ নিতে পারেননি।
শামার জোসেফের কাঁধে অস্বস্তির কারণে প্রশিক্ষণকালে সমস্যায় পড়ে, ফলে তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ মিস করেন। আফগানিস্তান সিরিজের আগে তার শেষ প্রতিযোগিতামূলক খেলা ছিল সেপ্টেম্বর মাসে, যেখানে তিনি গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের ১২টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র পাঁচটিতে খেলেছেন।
পেসার আক্রমণে জোসেফের পাশাপাশি জেসন হোল্ডার, ম্যাথিউ ফোর্ড এবং জেডেন সিলসের নাম রয়েছে। এই ত্রয়ী দ্রুত গতি ও ভিন্ন ভিন্ন বোলিং স্টাইলের সমন্বয় ঘটিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানকে চ্যালেঞ্জ করবে।
স্পিন বিভাগে একেল হোসেইনের নেতৃত্বে রস্টন চেজ ও গুদাকেশ মতি সহায়তা করবেন। হোসেইনের বামহাতি স্পিন এবং চেজের অল-রাউন্ডার ক্ষমতা দলকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নমনীয়তা দেবে।
স্কোয়াডে মোট এগারোজন খেলোয়াড় পূর্ববর্তী হোম বিশ্বকাপ থেকে ফিরে আসছেন, যা টিমের অভিজ্ঞতা ও ঐতিহাসিক জয়ী মানসিকতা বজায় রাখবে। এই অভিজ্ঞতা নতুন খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিশে দলকে সমন্বিত করতে সাহায্য করবে।
বামহাতি ওপেনার ইভিন লুইস এবং দ্রুতগতি বোলার আলজার্রি জোসেফের নাম স্কোয়াডে না থাকায় কিছু প্রশ্ন উঠেছে, কারণ দুজনই সাম্প্রতিক সময়ে আঘাতের সমস্যায় ভুগছিলেন। তাদের অনুপস্থিতি নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ বাড়িয়েছে।
দুটি বার চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ সিতে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, নেপাল এবং আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। গ্রুপের প্রতিটি দলই শক্তিশালী, তাই প্রতিটি ম্যাচে পূর্ণ প্রস্তুতি প্রয়োজন হবে।
দলটি এখন প্রশিক্ষণ শিবিরে শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শীঘ্রই প্রথম ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে। ভক্তরা আশা করছেন যে নতুন মুখের উচ্ছ্বাস ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সমন্বয় দলকে আবার শীর্ষে নিয়ে যাবে।



