28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমহিলা অধিকার কর্মীরা ইলেকশন কমিশনকে নিরাপত্তা ও লিঙ্গ‑সংবেদনশীল নির্বাচন নিশ্চিত করতে আহ্বান

মহিলা অধিকার কর্মীরা ইলেকশন কমিশনকে নিরাপত্তা ও লিঙ্গ‑সংবেদনশীল নির্বাচন নিশ্চিত করতে আহ্বান

মহিলা অধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইলেকশন কমিশনের সামনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং লিঙ্গ‑সংবেদনশীল পরিবেশের দাবি তুলে ধরেছেন, যা ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত পার্লামেন্টারি নির্বাচনের পূর্বে জরুরি বলে তারা উল্লেখ করেছেন। এই আহ্বান সমান ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে করা হয়েছে, যাতে লিঙ্গ, ধর্ম, জাতি বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সকল নাগরিক স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে।

প্রেস কনফারেন্সটি সমাজিক প্রতিরোধ কমিটি দ্বারা আয়োজন করা হয় এবং সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে একটি স্মারক পত্র চিফ ইলেকশন কমিশনারের কাছে উপস্থাপন করা হয়, যেখানে নিরাপত্তা ও লিঙ্গ‑সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করার নির্দিষ্ট প্রস্তাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফৌজিয়া মোসেল তার স্বাগত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে নির্বাচনের ঘোষণার ফলে গণতান্ত্রিক মানদণ্ড পুনরুদ্ধারের বিষয়টি আবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। তিনি বলেন, মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবি তোলা হচ্ছে, যার মধ্যে সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা বৃদ্ধি, সেই আসনের জন্য ভোটদান পদ্ধতি সংস্কার এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও বেশি নারী প্রার্থী মনোনয়ন করার আহ্বান অন্তর্ভুক্ত।

তবে ফৌজিয়া মোসেল উল্লেখ করেন, এইসব দাবির বাস্তবায়নে এখনো যথেষ্ট অগ্রগতি দেখা যায়নি। প্রার্থীর তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আসন্ন নির্বাচনে নারী প্রার্থীর অংশ মাত্র ৪.২ শতাংশ, যা নারী আন্দোলনের দৃষ্টিতে অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত।

মহিলা সংগঠনগুলো পূর্বে ইলেকশন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে প্রার্থী নির্বাচন, অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাব, এবং লিঙ্গ দৃষ্টিকোণ থেকে বিস্তৃত নির্বাচনী সংস্কার সংক্রান্ত সুপারিশ উপস্থাপন করেছিল। এই সুপারিশগুলোতে বিশেষ করে নিরাপদ ভোটদান পরিবেশ, নারী প্রার্থীর সমান সুযোগ এবং ভোটারদের মধ্যে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।

ইলেকশন কমিশন পরবর্তীতে দৃষ্টিবঞ্চিত ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য ভোটদান সুবিধা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেয়, তবে নারী সংগঠনগুলোর অন্যান্য দাবি নিয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফৌজিয়া মোসেল এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা ও লিঙ্গ‑সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করা না হলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সমাজিক প্রতিরোধ কমিটি, যা ৭১টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত, নির্বাচনের নিকটবর্তী সময়ে ইলেকশন কমিশনের সঙ্গে একটি বৈঠকের অনুরোধ জানায়, তবে এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এই অপ্রতিক্রিয়া তাদের দাবি আরও তীব্র করে তুলেছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি বিশ্বাসের ক্ষয় ঘটাতে পারে।

মহিলা অধিকার কর্মীরা বিশেষ করে প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন, কারণ তারা ভোটদান সময় অতিরিক্ত হুমকির মুখে পড়তে পারে। তারা দাবি করেন, নিরাপদ ভোটদান কেন্দ্র, পর্যাপ্ত পুলিশ উপস্থিতি এবং লিঙ্গ‑সংবেদনশীল প্রশিক্ষণ সহকারী কর্মীদের নিয়োগ জরুরি।

এই দাবিগুলোর রাজনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট। যদি ইলেকশন কমিশন নারী সংগঠনগুলোর প্রস্তাবনা উপেক্ষা করে, তবে পার্টিগুলোকে নারী ভোটারদের কাছ থেকে সমর্থন হারানোর ঝুঁকি থাকে, বিশেষ করে যারা নারী অধিকার ও সমতা বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়। অন্যদিকে, নিরাপত্তা ও লিঙ্গ‑সংবেদনশীলতা নিশ্চিত হলে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে এবং পার্লামেন্টে নারীর উপস্থিতি বৃদ্ধি পেতে পারে।

ভবিষ্যতে কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে মহিলা অধিকার কর্মীরা ইলেকশন কমিশনের সঙ্গে পুনরায় সংলাপের দরজা খুলে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা আশা করেন, নির্বাচনের পূর্বে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গৃহীত হবে, যাতে সকল ভোটার, বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় এই বিষয়গুলো রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে, এবং ইলেকশন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments