অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার, বাংলাদেশের শীর্ষ জুতা নির্মাতা ও বিক্রেতা, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ত্রৈমাসিকের নিট মুনাফা গত বছরের তুলনায় ৬৭ শতাংশ বেড়ে টাকার ৫.৩৫ কোটি হয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বিক্রয় বৃদ্ধির ফলে অর্জিত আয় বৃদ্ধির ফলাফল।
ত্রৈমাসিকের মোট বিক্রয় আয় ৪৫৯.২৪ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিক্রয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানির মূলধনী কাঠামোও শক্তিশালী হয়েছে।
বেসিক প্রতি শেয়ার আয় টাকার ১.০৯ বৃদ্ধি পেয়ে টাকার ২.৭২ হয়েছে, যা শেয়ারহোল্ডারদের জন্য আয় বৃদ্ধির স্পষ্ট সূচক। এই আয় বৃদ্ধি মূলত নেট বিক্রয় আয় এবং করের পূর্বে মুনাফার উন্নতির কারণে।
আর্থিক ফলাফলের ইতিবাচক দিকগুলো শেয়ার বাজারে প্রতিফলিত হয়েছে; ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ারের দাম ১২:২৬ টায় টাকার ১৮২.৮০ এ পৌঁছে, যা পূর্বের তুলনায় ২.৫৮ শতাংশের ঊর্ধ্বগতি।
জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়কালে শেয়ার প্রতি অপারেটিং নগদ প্রবাহ টাকার ৯১.৮৬, যেখানে একই সময়ে পূর্ববছরে এটি টাকার ৫৭.০৭ ছিল, ফলে প্রতি শেয়ারে টাকার ৩৪.৭৯ বৃদ্ধি পেয়েছে।
নগদ প্রবাহের এই উন্নতি গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থের ২২.২১ শতাংশ বৃদ্ধি এবং সরবরাহকারী, কর্মচারী ও অন্যান্য ব্যয়ের ১৫.৮২ শতাংশ বৃদ্ধির সমন্বয়ে ঘটেছে। ফলে কোম্পানির তরলতা ও নগদ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী হয়েছে।
শেয়ারহোল্ডার গঠন অনুযায়ী, কোম্পানির ৩১.৩২ শতাংশ শেয়ার স্পনসর ও পরিচালকদের হাতে, ২৮.৪১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর এবং ৪০.২৭ শতাংশ সাধারণ জনগণের। সরকারী বা বিদেশি কোনো শেয়ারহোল্ডার নেই।
অ্যাপেক্স ১৯৯০ সালে রপ্তানি-কেন্দ্রিক কারখানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৯৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ১৯৯৭ সালে গ্যালারি অ্যাপেক্স চালু করে, আর ২০০০ সালে অ্যাপেক্স ও মুচি ব্র্যান্ডের মাধ্যমে বাজারে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার ভিত্তি স্থাপন করে।
বিক্রয় বৃদ্ধির পেছনে দেশীয় বাজারে জুতার চাহিদা বৃদ্ধি এবং ব্র্যান্ডের ধারাবাহিক বিপণন কৌশলকে মূল কারণ হিসেবে দেখা যায়। একই সঙ্গে, রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পণ্য সরবরাহের সক্ষমতা কোম্পানির আয় বাড়াতে সহায়তা করেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, বর্তমান ফলাফল কোম্পানির ভবিষ্যৎ ত্রৈমাসিকের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে, বিশেষ করে নতুন পণ্য লাইন ও ডিজিটাল বিক্রয় চ্যানেল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা কার্যকর হলে আয় আরও বাড়তে পারে।
তবে, কাঁচামাল মূল্যের ওঠানামা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির পরিবর্তন ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। এসব বিষয়ের প্রতি সতর্কতা অবলম্বন না করলে লাভের হার কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ত্রৈমাসিক ফলাফল তার ব্যবসায়িক মডেল ও বাজার অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ইতিবাচক রিটার্ন নিশ্চিত করেছে। ভবিষ্যতে বিক্রয় সম্প্রসারণ ও খরচ নিয়ন্ত্রণে সাফল্য অর্জন করলে কোম্পানি আরও স্থিতিশীল বৃদ্ধি পেতে পারে।



