শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামির আমির, মঙ্গলবার সকাল জশোর ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে দলীয় লক্ষ্য ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি জামায়াত-এ-ইসলামি সরকার গঠন করে, তবে ঐতিহ্যবাহী পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডল থেকে অদৃশ্য হবে।
বক্তা বলেন, “অতীতের বস্তাপচা রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে আমরা বাংলাদেশে নতুন রাজনীতি নিয়ে আসব, যেখানে পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি থাকবে না।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, দলের বিজয় নয়, দেশের ১৮ কোটি নাগরিকের সমগ্র উন্নয়নই মূল লক্ষ্য।
শফিকুর রহমানের পরিকল্পনায় জশোর শহরকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করা, জশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল গঠন, এবং যোগাযোগ ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত। তিনি এসব প্রকল্পকে ভোটারদের জন্য সরাসরি উপকারি বলে উল্লেখ করেন।
গণভোটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হ্যাঁ ভোট মানে স্বাধীনতা, না ভোট মানে দাসত্ব।” তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথম হ্যাঁ ভোটের তারিখ ঘোষিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে, পরবর্তী ধাপে প্রতীকী ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন হবে বলে ইঙ্গিত দেন।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নীতি-নির্ধারণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। “যে দল নিজেদের কর্মীদের সামলাতে পারে না, তারা দেশের শাসনেও সক্ষম হবে না,” তিনি বলেন, এবং বি এন পি-কে দলের মধ্যে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানান।
জনসভার সময়ে নারী কর্মীদের ওপর আক্রমণের অভিযোগ উঠে, শফিকুর রহমান তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার আপনারা কে?” তিনি প্রশাসনকে অনুরোধ করেন, যদি কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন হয় তবে তা দ্রুত শাসনব্যবস্থার কাছে জানাতে। তিনি আরও যোগ করেন, “যে শাস্তি হবে, আমরা তা মেনে নেব; তবে আমাদের মায়ের জাতিকে অপমান করা হবে না।”
শফিকুর রহমান যুব সমাজকে আহ্বান জানান, “যেখানে বাধা আসবে, সেখানে প্রতিহত করতে হবে। আমরা কারোর পায়ে পা দিয়ে ঝামেলা করব না, তবে কাউকে ছেড়ে দেবো না।” তিনি প্রশাসনের ন্যায়পরায়ণতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার গুরুত্বও উল্লেখ করেন, যাতে জনগণের স্বার্থ রক্ষা পায়।
বক্তা মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, “আমরা মুক্তিযুদ্ধকে হাজারবার স্মরণ করি এবং তার আদর্শ রক্ষা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।” তিনি দেশের ঐতিহাসিক গৌরবকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংস্কারের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন।
শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর, উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা তার পরিকল্পনা ও লক্ষ্যকে সমর্থন জানিয়ে তালি দেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু ক্ষমতা অর্জন নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও সামাজিক উন্নয়নকে একসাথে এগিয়ে নেওয়া।”
এই জনসভা জামায়াত-এ-ইসলামির নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা বৃহৎ সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন। শফিকুর রহমানের ভাষণ দলীয় নীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ভোটের কৌশল স্পষ্ট করে, যা আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, শফিকুর রহমানের পরিবারতন্ত্রের সমাপ্তি ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি জামায়াত-এ-ইসলামির প্রচারাভিযানের মূল বার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি দলটি ভোটে সফল হয়, তবে তার ঘোষিত নীতি বাস্তবায়ন দেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।



