মেইনের ব্যাঙ্গর বিমানবন্দরে মঙ্গলবার একটি চ্যালেঞ্জার সিক্স হান্ড্রেড টার্বো-ফ্যান জেট বিধ্বস্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু এবং ৮ জনের গুরুতর আঘাত নিশ্চিত করা হয়েছে। বিমানটি টেক্সাসের হিউস্টন ভিত্তিক একটি কোম্পানির মালিকানাধীন ছিল এবং টেক্সাস থেকে মেইনে উড়েছিল।
ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন জানায়, বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিমানটি তীব্র অগ্নিকাণ্ডে জ্বলে ওঠে এবং আগুনের শিখা দ্রুত পুরো জাহাজকে গ্রাস করে। অগ্নি নিভাতে দেরি হওয়ায় পাইলট ও যাত্রীদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিমানটির আটজন যাত্রীর মধ্যে অবশিষ্টজনদের গুরুতর আঘাতের রিপোর্ট পাওয়া গেছে এবং তারা তৎক্ষণাৎ স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তরিত হয়েছে। বাকি একজন যাত্রী ও ক্রু সদস্যের অবস্থার সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় ব্যাঙ্গরের আকাশে হালকা তুষারপাত শুরু হয়েছিল, যা দৃশ্যমানতা কমিয়ে দেয়। তবে বর্তমান তদন্তে তুষারপাতের সরাসরি ভূমিকা আছে কিনা তা নিশ্চিত করা যায়নি।
বিধ্বস্ত ঘটনার পর ব্যাঙ্গর বিমানবন্দর অবিলম্বে বন্ধ করা হয় এবং সমস্ত উড়ান স্থগিত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেইফটি বোর্ড (NTSB) ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
বিমানটি ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে সেবা শুরু করেছিল এবং তখন থেকে বাণিজ্যিক ও চার্টার উড্ডয়ন উভয়ই পরিচালনা করে আসছে। রেকর্ড অনুসারে, এটি টেক্সাসের হিউস্টনের একটি এয়ারক্রাফট লিজিং কোম্পানির নামের অধীনে নিবন্ধিত ছিল।
সেই দিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরপূর্বাঞ্চল থেকে দক্ষিণপশ্চিম টেক্সাস পর্যন্ত এক বিশাল শীতকালীন ঝড় প্রবাহিত হচ্ছিল। নিউ ইংল্যান্ড থেকে টেক্সাস পর্যন্ত বিস্তৃত এই ঝড়ের ফলে মেইনের বেশিরভাগ এলাকায় শীতকালীন ঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, যার মধ্যে ব্যাঙ্গর শহরও অন্তর্ভুক্ত।
আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা সংস্থা ICAO-র সঙ্গে ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসনের সমন্বয় এই ধরনের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পূর্বের অনুরূপ দুর্ঘটনা থেকে শিখে নেয়া নিরাপত্তা প্রোটোকলগুলো এখন পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
একজন আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “এ ধরনের দুর্ঘটনা শুধু জাতীয় নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের জন্যও সতর্কতা বোধের সংকেত দেয়, বিশেষ করে শীতল আবহাওয়ায় অপারেশনাল ঝুঁকি বাড়ে।” তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এই ঘটনার তথ্য সংশ্লিষ্ট মিত্র দেশগুলোকে জানিয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে কানাডার সঙ্গে সীমান্ত পারাপার বিমান চলাচল সম্পর্কিত সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ধরনের তথ্য শেয়ারিং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক।
বিধ্বস্তের পর অঞ্চলে বিমান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হয়েছে; ব্যাঙ্গর এবং পার্শ্ববর্তী বিমানবন্দরে উড়ান বাতিল ও বিলম্বের সংখ্যা বেড়েছে। এয়ারলাইনগুলো বিকল্প রুট ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হয়েছে।
NTSB আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক বিশ্লেষণ প্রতিবেদন প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্টের জন্য কয়েক মাসের সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। ফলাফলে যদি কোনো নকশা ত্রুটি বা পরিচালনাগত ভুল পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনী পদক্ষেপ নেবে।



