সালমান খান ব্যাটল অফ গালওয়ান ছবির শুটিং পুনরায় শুরু করেছে। ডিসেম্বর মাসে মূল শুট শেষ হওয়ার পর, এখন দল ১৫ দিনের অতিরিক্ত সময়ে নতুন দৃশ্য ও অ্যাকশন সিকুয়েন্স যুক্ত করার পরিকল্পনা চালু করেছে। ছবির মুক্তি ১৭ এপ্রিল নির্ধারিত, যা প্রায় তিন মাসের মধ্যে আসবে।
ডিসেম্বরের শেষের দিকে মূল শুটিং সমাপ্ত হওয়ার পর, প্রযোজক, পরিচালক আপূর্ব লাখিয়া এবং পুরো কাস্ট পুনরায় একত্রিত হয়েছে। অতিরিক্ত শুটের উদ্দেশ্য হল চলচ্চিত্রের বর্ণনাকে আরও শক্তিশালী করা এবং দর্শকের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করা। এই কাজকে “প্যাচওয়ার্ক” বলা হচ্ছে, যেখানে পূর্বে শুট করা অংশগুলোকে পরিমার্জন করা এবং নতুন কিছু দৃশ্য যোগ করা হবে।
নতুন দৃশ্যগুলোর মধ্যে কিছুতে অ্যাকশন উপাদান যুক্ত করা হয়েছে। পরিচালক ও অভিনেতা উভয়ই স্বীকার করেছেন যে এই দৃশ্যগুলো গল্পের মূল প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সালমান খান ছবির প্রতিটি দিককে নিখুঁত করতে চান, তাই তিনি অতিরিক্ত শুটে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করছেন। তার লক্ষ্য হল গালওয়ান যুদ্ধের তীব্রতা ও মানবিক দিকটি যথাযথভাবে উপস্থাপন করা।
অতিরিক্ত শুটের সময়সূচি ১৫ দিন নির্ধারিত, এবং প্রযোজক দল এই সময়কে যথাযথভাবে ব্যবহার করে ছবির চূড়ান্ত রূপ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। মুক্তির তারিখের কাছাকাছি সময়ে এই কাজ সম্পন্ন হওয়ায়, চূড়ান্ত কাটা-ছাঁটা ও পোস্ট-প্রোডাকশন কাজের জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে দর্শকদের সামনে একটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও প্রভাবশালী চলচ্চিত্র উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
চলচ্চিত্রের প্রথম গানের প্রকাশ ২৪ জানুয়ারি করা হয়। “মাতৃভূমি” শিরোনামের এই গানটি ছবির থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সুরে রচিত এবং ইতিমধ্যে শ्रोतাদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। গানের মাধ্যমে গালওয়ান যুদ্ধের পটভূমি ও দেশের প্রতি গর্বের অনুভূতি প্রকাশ করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত ট্রেলার প্রকাশের সুনির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশিত হয়নি, তবে প্রযোজকরা ট্রেলার মুক্তি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ট্রেলার মাধ্যমে দর্শকরা ছবির ভিজ্যুয়াল স্টাইল ও গল্পের মূল দিক সম্পর্কে ধারণা পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সালমান খান ছাড়াও ছবিতে চিত্রাঙ্গদা সিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সালমান খান কলোনেল বিক্কুমল্লা সন্তোষ বাবু চরিত্রে অভিনয় করছেন, যা বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। চলচ্চিত্রটি শিব আরূর ও রাহুল সিং রচিত “ইন্ডিয়ার মোস্ট ফিয়ারলেস ৩” (২০২২) বইয়ের একটি অধ্যায় থেকে অনুপ্রাণিত, যেখানে গালওয়ান উপত্যকায় ১৫ জুন ২০২০ তারিখে ভারত ও চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের বিবরণ রয়েছে।
গালওয়ান উপত্যকায় সংঘটিত এই সংঘর্ষটি কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে ঘটেছিল এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল। ছবিটি ঐ ঐতিহাসিক ঘটনার মানবিক দিক ও সৈন্যদের বীরত্বকে তুলে ধরতে চায়। এই প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রের নির্মাণ প্রক্রিয়া ও অতিরিক্ত শুটের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রযোজক দল আশা প্রকাশ করেছে যে অতিরিক্ত শুটের মাধ্যমে ছবির গুণগত মান আরও উন্নত হবে এবং দর্শকরা গালওয়ান যুদ্ধের বাস্তবতা ও তীব্রতা অনুভব করতে পারবেন। সালমান খানের দৃঢ়সংকল্প ও দলের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছবিটিকে একটি স্মরণীয় যুদ্ধচিত্রে রূপান্তরিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলচ্চিত্রের শেষ পর্যন্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে, এটি এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে বড় পর্দায় আসবে। গালওয়ান যুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও দেশের গর্বকে কেন্দ্র করে তৈরি এই চলচ্চিত্রটি দর্শকদের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে। সকলের প্রত্যাশা এই যে, ছবিটি বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি যুদ্ধের মানবিক দিককে সঠিকভাবে উপস্থাপন করবে।



