স্যান্ড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে নতুন কাজ ‘চেজিং সামার’ প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় উপস্থাপিত হয়েছে। ছবিটি জোসেফিন ডেকার পরিচালনা করেছেন এবং কমেডি অভিনেত্রী ইলিজা শ্লেসিঙ্গার লিখেছেন। প্রধান চরিত্রে শ্লেসিঙ্গার নিজেই, গ্যারেট ওয়্যারিং, লোলা টুং, ক্যাসিডি ফ্রিম্যান, টম ওয়েলিং এবং মেগান মুলালি অভিনয় করেছেন। ছবির দৈর্ঘ্য প্রায় এক ঘন্টা ত্রিশ মিনিট।
ডেকার পূর্বে ‘ম্যাডেলিনের ম্যাডেলিন’ এবং ‘শার্লি’ নামে দুইটি স্বতন্ত্র শৈলীর চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন, যেখানে তিনি প্রচলিত সিনেমাটিক গঠনকে চ্যালেঞ্জ করে অপ্রচলিত ভিজ্যুয়াল ভাষা ব্যবহার করেছেন। এই দুই কাজের মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রের গঠনকে ভাঙা ও পুনর্গঠন করার সাহস দেখিয়েছেন, যা দর্শকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এরপর তিনি জনপ্রিয় তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক উপন্যাস ‘দ্য স্কাই ইজ এভরিওয়্যার’ এর চলচ্চিত্র রূপান্তরেও কাজ করেছেন, যেখানে এ২৪ প্রযোজনা সংস্থা সহযোগিতা করেছিল এবং ডেকারের স্বতন্ত্র শৈলীকে রোমান্সের গল্পে যুক্ত করা হয়েছিল।
‘চেজিং সামার’ এ শ্লেসিঙ্গারের কমেডি পটভূমি এবং ডেকারের আর্টহাউস শৈলীর সংমিশ্রণ দেখা যায়। শ্লেসিঙ্গার একজন পরিচিত স্ট্যান্ড‑আপ কমেডিয়ান, যার রুটিনে প্রায়ই অদ্ভুত চরিত্রের ছোঁয়া থাকে, তবে তার হিউমার মূলধারার দর্শকদের জন্য সহজলভ্য। অন্যদিকে ডেকারের কাজগুলো সাধারণত জটিল গঠন ও অপ্রত্যাশিত ভিজ্যুয়াল উপাদান দিয়ে গঠিত, যা কখনো কখনো দর্শকের কাছে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করতে পারে। এই দুই ভিন্ন শৈলীর মিশ্রণ ‘চেজিং সামার’ কে একটি অনন্য অভিজ্ঞতা করে তুলেছে।
চিত্রের মূল কাহিনী একটি বিচ্ছিন্ন নারীর ওপর ভিত্তি করে, যিনি হৃদয়ভঙ্গের পর নিজের শৈশবের শহরে ফিরে এসে অতীতের বন্ধু ও পরিচিতদের সঙ্গে পুনর্মিলন করেন। গল্পের কাঠামো প্রচলিত রোমান্স ও আত্ম-অন্বেষণের উপাদানকে অনুসরণ করে, যেখানে প্রধান চরিত্র তার জীবনের দিকনির্দেশনা পুনরায় নির্ধারণ করার চেষ্টা করে। যদিও কাহিনী নিজেই সরল, ডেকারের পরিচালনায় দৃশ্যগুলো প্রায়ই অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়, যা দর্শকের জন্য অদ্ভুত ও কখনো কখনো অস্বস্তিকর অনুভূতি তৈরি করে।
উদযাপন ও বিশ্লেষণের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ছবির অদ্ভুততা কখনো কখনো মূল কাহিনীর সরলতাকে ছাপিয়ে যায়। কিছু দৃশ্যের অপ্রচলিত রূপকল্প এবং অস্বাভাবিক ক্যামেরা কোণ দর্শকদেরকে প্রশ্নের মুখে ফেলে যে, চলচ্চিত্রটি কি কেবল একটি হালকা কমেডি নাকি গভীর শিল্পমূলক পরীক্ষা। এই দ্বৈততা ছবিটিকে স্যান্ড্যান্সের প্রোগ্রামে একটি বিশেষ স্থান প্রদান করেছে, যেখানে নতুনত্ব ও পরীক্ষামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রায়ই স্বাগত পায়।
সামগ্রিকভাবে, ‘চেজিং সামার’ একটি অপ্রচলিত কমেডি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা প্রচলিত গল্পের কাঠামোকে ডেকারের স্বতন্ত্র শৈলীর সঙ্গে মিশিয়ে নতুন রূপ দিয়েছে। ছবির অস্বাভাবিক ভিজ্যুয়াল পদ্ধতি এবং শ্লেসিঙ্গারের স্বাভাবিক হাস্যরসের মিশ্রণ দর্শকদেরকে একদিকে হাসি ও অন্যদিকে অদ্ভুততার মধ্যে টেনে নিয়ে যায়। স্যান্ড্যান্সে এই প্রিভিউটি চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ গৃহপ্রদর্শন ও বিতরণে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে এটি শিল্পের সীমা প্রসারিত করার একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
যারা নতুন ধরনের কমেডি ও আর্টহাউসের সংমিশ্রণ খুঁজছেন, তাদের জন্য ‘চেজিং সামার’ একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে। তবে ছবির অদ্ভুততা ও অপ্রচলিত শৈলী সব দর্শকের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে, তাই দেখার আগে প্রত্যাশা সামঞ্জস্য করা বুদ্ধিমানের কাজ। স্যান্ড্যান্সে এই চলচ্চিত্রের উপস্থিতি ডেকার ও শ্লেসিঙ্গার উভয়ের জন্যই একটি নতুন সীমানা পরীক্ষা করার সুযোগ প্রদান করেছে, যা ভবিষ্যতে তাদের কাজের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ‘চেজিং সামার’ একটি প্রচলিত ফিরে আসার গল্পকে অপ্রচলিত ভিজ্যুয়াল ও বর্ণনামূলক উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে একটি অনন্য সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। স্যান্ড্যান্সের মঞ্চে এই মিশ্রণটি নতুন দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং চলচ্চিত্রের শিল্পগত দিককে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করার সম্ভাবনা দেখিয়েছে।



