28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধতচ্ছাখালী গ্রামে পুকুরপাড়ে অবিস্ফোরিত বোমা, পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ

তচ্ছাখালী গ্রামে পুকুরপাড়ে অবিস্ফোরিত বোমা, পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ

কক্সবাজারের রামুর লট উখিয়াঘোনা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তচ্ছাখালী গ্রামে একটি পুকুরের পাশে সিলিন্ডার আকৃতির অবিস্ফোরিত বোমা পাওয়া যায়। এই বস্তুটি প্রায় দুই দশক ধরে গ্রামবাসীর দৈনন্দিন কাজের অংশ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছিল; কাপড় ধোয়া, লাকড়ি কাটা এবং মাংস-তরকারি পরিষ্কারের মতো কাজের জন্য এটি নিয়মিত স্পর্শে আসত। সম্প্রতি বোমার উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুটি পরীক্ষা করে নিশ্চিত করে যে এটি সত্যিই একটি বোমা, সম্ভবত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের।

অধিকাংশ গ্রামবাসী বোমাটিকে ধাতব সিলিন্ডার হিসেবে ভুল বুঝে বহু বছর ব্যবহার করছিল। এক স্থানীয় নারী রোকসানা আকতার জানান, তিনি এবং তার পরিবার বহু বছর ধরে এই বস্তুটির ওপর কাপড় ধুয়ে আসছেন এবং ভেজা কাপড় শুকাতে দিতেন। বোমার প্রকৃত স্বভাব সম্পর্কে জানার পর এখন কেউ তার নিকটেও যাওয়ার সাহস পায় না।

পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট প্রথম আলোকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে বোমাটির নকশা ও উপাদান থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের অস্ত্রের সঙ্গে সাদৃশ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানো বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের কর্মকর্তারা একই ধারণা নিশ্চিত করে এবং বোমার চারপাশে লাল চিহ্ন দিয়ে নিরাপত্তা জোন স্থাপন করে, যাতে কোনো ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রবেশ না করতে পারে।

বোমা নিষ্ক্রিয় করার জন্য জেলা পুলিশের সদর দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, সেনাবাহিনীর অনুমোদন পাওয়ার পর বোমা নিষ্ক্রিয় বা নিরাপদে অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একটি গোপনীয় পুলিশ কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, বোমাটির সঙ্গে এক সময় পাখার মতো একটি অংশ যুক্ত ছিল, যা বহু আগে স্থানীয় লোকজন সরিয়ে ফেলেছিল; সেই সময়ে তারা বোমার বিপদ সম্পর্কে সচেতন ছিল না।

বোমা প্রথমবার ২০ বছর আগে গ্রামের পাহাড়ি এলাকায় মাটি কাটা সময় আবিষ্কৃত হয় এবং পরে পুকুরের পাশে রাখা হয়। বর্তমানে এটি রোকসানা আকতার বাড়ির কাছাকাছি অবস্থিত। গ্রামবাসীর মতে, বোমা ধাতব বস্তু বলে ভেবে তারা নিয়মিত স্নান, কাপড় ধোয়া এবং অন্যান্য কাজের জন্য ব্যবহার করত। বোমা সম্পর্কে তথ্য ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে।

অধিকাংশ গ্রামবাসী এখন বোমার আশেপাশে যাওয়া থেকে বিরত থাকছেন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলছেন। পুলিশ ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল একত্রে কাজ করে বোমাটিকে নিরাপদে অপসারণের পরিকল্পনা চালু করেছে। এই ঘটনা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবিস্ফোরিত অস্ত্রের সম্ভাব্য উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্কতা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দ্রুত প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments