পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সোমবার রাত ৯টায় দুধের গোসলের অনুষ্ঠান শেষে ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দল নেতা মো. জালাল হাওলাদার জামায়াত-এ-ইসলামিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। অনুষ্ঠানটি বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দশ দলীয় ঐক্য জোটের দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ উপস্থিত ছিলেন।
মো. জালাল হাওলাদার, যিনি বগা ইউনিয়নের মৎস্যজীবী দলের সহ-সভাপতি হিসেবে কাজ করছিলেন, যোগদানের সময় দলের নেতাদের অবহেলা ও মানসিক কষ্ট সহ্য না করতে পারার কথা উল্লেখ করেন। তিনি অতীত ১৭ বছর ধরে দলের দুর্দিনে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে আসার পর, এখন নতুন অভিভাবকের আশ্রয়ে রাজনীতি চালাতে চান বলে জানান।
তিনি আরও জানান, বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তি তিনি চেয়েছিলেন এমন অভিভাবক নয়, বরং তিনি আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনে ব্যস্ত। অতএব, তিনি জামায়াত-এ-ইসলামিতে যোগদান করার সিদ্ধান্ত নেন এবং ভবিষ্যতে পার্টির পক্ষে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বগা ইউনিয়নের সাবেক বিএনপি সদস্য আবুল কালাম, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য এস এম আমিনুল ইসলাম, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম, মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি জামাল খান এবং শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক শরীফসহ প্রায় তিনশো অধিক বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকও জামায়াত-এ-ইসলামিতে যোগ দেন।
দশ দলীয় জোটের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি নবাগতরা যোগদানকারীদের উপহার হিসেবে জমজম কূপের পানি ও সৌদি আরবের খেজুর প্রদান করেন। এই উপহারগুলোকে নতুন সদস্যদের জন্য শুভেচ্ছা ও সমর্থনের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. তসলিম তালুকদার যোগদানের পর মন্তব্য করেন, দলীয় পদে থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদের বাড়ি বৈঠকে দুধের গোসলের অনুষ্ঠানটি পার্টির নতুন সদস্যদের মধ্যে ঐক্য ও সমর্থন জোরদার করার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলেই দুধের পাত্রে হাত ডুবিয়ে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে পার্টির সংহতি প্রকাশ করেন।
মো. জালাল হাওলাদার যোগদানের সময় বলেন, তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দলের দুর্দশা ও হিংসা সহ্য করে আসছেন এবং এখন নতুন নেতৃত্বের অধীনে রাজনৈতিক কাজ চালাতে চান। তিনি অতীতের দমন ও মামলার কথা উল্লেখ করে বর্তমান পার্টির নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন।
বিএনপি নেতারা যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে পার্টির নতুন সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে একসাথে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তারা পার্টির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।
এই ঘটনা পটুয়াখালীর রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি তৈরি করেছে, যেখানে মৎস্যজীবী দল নেতা এবং অন্যান্য স্থানীয় নেতা একত্রে জামায়াত-এ-ইসলামির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। এই ধরনের যোগদান পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং স্থানীয় স্তরে সমর্থন বাড়াতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
অধিকন্তু, দুধের গোসলের মাধ্যমে পার্টিতে নতুন সদস্যদের স্বীকৃতি দেওয়া একটি সাংস্কৃতিক রীতি, যা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বাড়াতে ব্যবহৃত হয়। এই রীতি স্থানীয় জনগণের মধ্যে পার্টির প্রতি ইতিবাচক ধারণা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
সামগ্রিকভাবে, মো. জালাল হাওলাদার এবং অন্যান্য স্থানীয় নেতা জামায়াত-এ-ইসলামিতে যোগদান করে পার্টির সংগঠনগত কাঠামোকে শক্তিশালী করেছেন এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পার্টির প্রভাব বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছেন।



