28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের ২০২৪ আন্দোলনের পরবর্তী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের ২০২৪ আন্দোলনের পরবর্তী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবারের সাক্ষাৎকারে দেখা গেল, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশের রাজনীতিতে বিশাল পরিবর্তন আনা ছাত্র আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনের দিকে কীভাবে তাকিয়ে আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়া বায়েজিদ বস্তামি, তৃতীয় বর্ষের গণিত ছাত্র মুস্তানসির মুয়াজ এবং প্রথম বর্ষের ইংরেজি শিক্ষার্থী লামিয়া ইরশাদের সঙ্গে আলাপের মাধ্যমে তাদের মতামত জানানো হয়েছে।

দলিলভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্ররা চাকরির কোটা নিয়ে প্রতিবাদ থেকে শুরু করে দেশব্যাপী উত্থানে রূপান্তরিত হয়। সেই সময়ে রংপুরের ক্যাম্পাসে ছাত্র আবু সায়েদ পুলিশ গুলিতে নিহত হন এবং তিনি আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠেন। বায়েজিদ এই ঘটনার স্মৃতি এখনও তীব্রভাবে অনুভব করেন এবং উল্লেখ করেন, আবু সায়েদের মামলায় এখনো চূড়ান্ত রায় না হওয়া তাকে রাজনৈতিকভাবে হতাশ করে।

বায়েজিদের মতে, অস্থায়ী সরকার জুলাইয়ের আদর্শ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের মূল দায়িত্ব ভুলে গিয়েছে। তিনি আরও জানান, ছাত্রদের মূল দাবি ছিল গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ, এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা।

মুস্তানসিরা স্পষ্টভাবে বলেন, তারা যখন রাস্তায় নেমে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন তাদের লক্ষ্য ছিল ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। তিনি যোগ করেন, এই দাবিগুলি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্রাফিতি ও স্লোগান হিসেবে প্রকাশ পেয়েছিল এবং এখনও কিছু ক্যাম্পাসে দেখা যায়।

লামিয়া ইরশাদের দৃষ্টিতে, বর্তমান সময়ে সেই দাবিগুলি পূরণ হচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি চললেও বাস্তবিক অগ্রগতি খুব কম। তার মতে, ছাত্র আন্দোলনের সময়ের তীব্রতা এখন আর দেখা যায় না; এখন তারা প্রচারাভিযান শোনে, প্রতিশ্রুতি বিশ্লেষণ করে এবং নীরবে মূল্যায়ন করে।

এই তিনজনের মতামত থেকে স্পষ্ট হয়, ১৮ মাসের পরেও ছাত্রদের প্রত্যাশা এবং সরকারের কার্যক্রমের মধ্যে ফাঁক রয়ে গেছে। যদিও তারা এখন রাস্তায় নেমে না, তবু তারা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার দিকে নজর রাখছে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারক হিসেবে দেখছে।

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন দল তাদের প্রচারসূচি প্রকাশ করেছে, তবে ছাত্রদের মতে, এই প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়নের জন্য স্পষ্ট পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতা দরকার। তারা বিশেষ করে কর্মসংস্থান নীতি, শিক্ষার মান এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে সরকারের দায়িত্বের ওপর জোর দেন।

অধিকন্তু, বায়েজিদের উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবু সায়েদের মামলার অমীমাংসা রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে এবং এটি ভবিষ্যৎ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। তিনি দাবি করেন, ন্যায়বিচার না হলে জনমতকে আস্থা হারাতে পারে।

মুস্তানসিরা আরও বলেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় গৃহীত স্লোগানগুলি এখনো ক্যাম্পাসের দেয়ালে ম্লান হয়ে আছে, তবে সেগুলি এখনও স্মরণীয় এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নির্বাচনে এই আদর্শগুলো পুনরায় আলোচনার সুযোগ পাবে।

লামিয়া ইরশাদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে ছাত্রদের স্বর শোনা কঠিন, তবে তারা ভোটের মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাবে। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটার হিসেবে তরুণদের অংশগ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার শক্তি বাড়াবে।

সামগ্রিকভাবে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাক্ষাৎকারটি দেখায় যে, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের স্মৃতি এবং তার প্রভাব এখনো রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। যদিও আন্দোলনের তীব্রতা কমে গেছে, তবে তার মূল দাবিগুলি এখনও অমীমাংসিত এবং নির্বাচনের ফলাফলে তা প্রভাব ফেলতে পারে।

নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পরিবর্তন করবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে ছাত্রদের প্রত্যাশা এবং সরকারের দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় না হলে জনমতকে অসন্তোষে পরিণত হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে, তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং তাদের দাবিগুলির যথাযথ প্রতিফলন দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments