মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি বিমানবাহী জাহাজ এবং একাধিক গাইডেড‑মিসাইল ডেস্ট্রয়ারকে মধ্যপ্রাচ্যের সীমান্তে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছে। দুইজন মার্কিন কর্মকর্তার মতে, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে এই নৌবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি শক্তিশালী করতে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে পাঠানো হয়েছে।
বাহিনীর প্রধান জাহাজ হল ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, যা অন্যান্য যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে একসাথে অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। এই নৌবাহিনীর গতি গত মাসের শুরুর দিকে এশিয়া‑প্যাসিফিক থেকে শুরু হয়, যখন ইরানের অভ্যন্তরে প্রতিবাদ দমন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছিল।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি “বহরবাহিনীর” গতি ইরানের দিকে বাড়ছে, তবে তিনি তা ব্যবহার না করার আশাও প্রকাশ করেছেন। তার পূর্ববর্তী মন্তব্যে তিনি ইরানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবিদ্ধ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন, তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশব্যাপী প্রতিবাদ কমে যাওয়ায় তিনি পরিস্থিতি শিথিল হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনী অতীতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে শক্তি বৃদ্ধি করেছে, যা প্রায়শই রক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। বিশেষ করে গত বছর জুনে ইরানের পারমাণবিক সুবিধার ওপর আক্রমণ পরিকল্পনার আগে একটি বড় মাত্রার শক্তি সংযোজন করা হয়েছিল।
এইবার ক্যারিয়ার জাহাজের পাশাপাশি ইউএস পেন্টাগন ফাইটার জেট এবং এয়ার‑ডিফেন্স সিস্টেমও অঞ্চলে পাঠাচ্ছে। সামরিক বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, এই সরঞ্জামগুলোকে ব্যবহার করে একটি সামরিক অনুশীলন পরিচালনা করা হবে, যার উদ্দেশ্য হল দ্রুত ডিপ্লয়, বিচ্ছিন্ন এবং স্থায়ী যুদ্ধবিমান শক্তি প্রদর্শন করা।
অনুশীলনের সময়সূচি সপ্তাহান্তে প্রকাশিত হয় এবং এতে বিমানবাহী জাহাজের সঙ্গে সমন্বিত এয়ার অপারেশন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই ধরনের প্রশিক্ষণ সাধারণত কৌশলগত দৃশ্যপটের প্রস্তুতি এবং জোটের সামরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য করা হয়।
ইরানের একটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গত সপ্তাহে জানিয়েছেন যে কোনো আক্রমণকে “সম্পূর্ণ যুদ্ধ” হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে ইরানের সার্বভৌমত্বের সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন এবং প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই সময়ে স্পষ্ট করে বলেছে যে তার আকাশ, ভূখণ্ড বা সামুদ্রিক সীমা কোনো শত্রুতামূলক সামরিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করা হবে না। এই অবস্থানটি ইউএস পেন্টাগনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নেওয়া হয়েছে, যাতে অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোতে অতিরিক্ত উত্তেজনা না বাড়ে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর আল ধাফরা এয়ার বেস, যা আবুধাবির দক্ষিণে অবস্থিত, ইরানের দিকে সমর্থনমূলক মিশনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এই বেসের মাধ্যমে ফাইটার জেট, রিফুয়েলিং এবং লজিস্টিক সাপোর্ট সরবরাহ করা হয়।
অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ার ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারি বাড়ছে। ন্যাটো এবং অন্যান্য মিত্র দেশগুলো এই পদক্ষেপকে অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছে, তবে একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বানও জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে এই নৌবাহিনীর উপস্থিতি ইরানের পারমাণবিক নীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তারা সতর্ক করেছেন যে অতিরিক্ত সামরিক চাপ পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে, তাই কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো সক্রিয় রাখা জরুরি।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা মানচিত্রে নতুন গতিবিধি দেখা যাবে, এবং পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।



