বেঙ্গালুরু ভিত্তিক টেজাস নেটওয়ার্কসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা অর্ণব রয় বলেছেন, দেশের টেলিকম নেটওয়ার্কের স্থায়িত্বের জন্য কম্পিউটার চিপের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ অপরিহার্য। তার কোম্পানি মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক ও ব্রডব্যান্ড সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করে, যা ডেটা ট্রাফিককে দ্রুত ও নিরাপদে স্থানান্তর করে।
টেজাস নেটওয়ার্কস টেলিকম সিস্টেমে ব্যবহৃত বিশেষায়িত চিপের নকশা করে। এই চিপগুলো ভোক্তা বা স্মার্টফোন চিপের থেকে মৌলিকভাবে ভিন্ন, কারণ তারা একসাথে শত শত হাজার ব্যবহারকারীর বিশাল ডেটা প্রবাহ পরিচালনা করে। নেটওয়ার্কের বন্ধ না হওয়া, অতিরিক্ত রিডান্ডেন্সি এবং ফেইল-সেফ অপারেশন নিশ্চিত করার জন্য চিপের আর্কিটেকচারকে উচ্চ নির্ভরযোগ্যতা রাখতে হয়।
ভারতকে সেমিকন্ডাক্টর নকশার ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় হিসেবে গণ্য করা হয়। আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২০% সেমিকন্ডাক্টর ইঞ্জিনিয়ার ভারতের মধ্যে কাজ করেন। এ কারণে গ্লোবাল চিপ নির্মাতাদের বেশিরভাগেরই ভারতের মধ্যে বড় বা দ্বিতীয় বৃহত্তম ডিজাইন সেন্টার রয়েছে, যেখানে তারা সর্বাধুনিক পণ্যগুলোর নকশা করে।
তবে চিপের উৎপাদন এখনও দেশের বাইরে সীমাবদ্ধ। টেজাসের মতো কোম্পানি দেশীয়ভাবে চিপের ডিজাইন সম্পন্ন করে, কিন্তু ফ্যাব্রিকেশন প্রক্রিয়া বিদেশের ফাউন্ড্রিতে সম্পন্ন হয়। এই কাঠামোটি গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে দেয়।
কোভিড-১৯ মহামারী এই দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে দেখিয়েছে। চিপের সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন লাইন থেমে যায় এবং ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে টেলিকম, অটোমোবাইল এবং ভোক্তা ইলেকট্রনিক্স সেক্টরে চিপের ঘাটতি উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মহামারির সময় বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব্রিকেশন কেন্দ্রের একাগ্রতা ঝুঁকিপূর্ণ প্রমাণিত হয়। কোনো এক অঞ্চল বন্ধ হয়ে গেলে পুরো ইলেকট্রনিক্স শিল্পের সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে যায়, যা অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়ায়। এই বাস্তবতা ভারতকে নিজের ফ্যাব্রিকেশন সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করায়।
সরকার এখন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। নকশা থেকে উৎপাদন পর্যন্ত সব ধাপ দেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে নীতি নির্ধারণ, বিনিয়োগ ও গবেষণা সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। অর্ণব রয় সরকারী উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, যাতে দেশীয় চিপের চাহিদা পূরণে স্থানীয় ফ্যাব্রিকেশন ইউনিট দ্রুত চালু হয়।
এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে ভারতীয় টেক শিল্পের স্বনির্ভরতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে চিপ উৎপাদন সম্ভব হলে টেলিকম, ক্লাউড সেবা এবং শিল্প স্বয়ংক্রিয়তা ক্ষেত্রে খরচ কমে যাবে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। শেষ পর্যন্ত, সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র অবস্থান অর্জন দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



