একটি বৃহৎ যুক্তরাজ্য ভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে মেনোপজের সময় মস্তিষ্কের ধূসর পদার্থ হ্রাস পায়, যা আলঝেইমার রোগে দেখা পরিবর্তনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। গবেষণাটি প্রায় ১,২৫,০০০ নারীকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যার মধ্যে ১১,০০০ জনের মস্তিষ্কের এমআরআই স্ক্যান করা হয়েছে। ফলাফলগুলো নারীদের ডিমেনশিয়া ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাব্য কারণের ওপর আলোকপাত করেছে।
এই গবেষণায় ধূসর পদার্থের ক্ষয় বিশেষ করে স্মৃতি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে জড়িত অঞ্চলে বেশি দেখা গেছে। এই অঞ্চলগুলো আলঝেইমার রোগে প্রথমে প্রভাবিত হয় বলে জানা যায়, ফলে মেনোপজের পর এই পরিবর্তনগুলো ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, মেনোপজের হরমোন পরিবর্তন এই ধূসর পদার্থের ক্ষয়কে ত্বরান্বিত করতে পারে।
হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (HRT) ব্যবহারকারী নারীদের মধ্যে ধূসর পদার্থের হ্রাস রোধের কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও HRT মেনোপজের শারীরিক উপসর্গ যেমন ঘুমের ব্যাঘাত ও গরমের ঝাঁকুনি কমাতে সাহায্য করে, তবে মস্তিষ্কের গঠনগত পরিবর্তনে এর প্রভাব সীমিত বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রফেসর বারবারা সাহাকিয়ান, গবেষণার প্রধান লেখক, উল্লেখ করেন, “যে মস্তিষ্কের অঞ্চলগুলোতে পার্থক্য দেখা গেছে সেগুলো আলঝেইমার রোগে প্রভাবিত হয়। মেনোপজ এই নারীদের ভবিষ্যতে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। যদিও এটি পুরো গল্প নয়, তবে এটি ব্যাখ্যা করতে পারে কেন নারীর ডিমেনশিয়া ঘটার হার পুরুষের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।” এই মন্তব্য গবেষণার মূল ফলাফলকে সংক্ষেপে তুলে ধরে।
ধূসর পদার্থ মূলত নিউরন সেলের দেহ ও ডেনড্রাইট নিয়ে গঠিত, যা পার্শ্ববর্তী নিউরনের সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদান করে। অন্যদিকে সাদা পদার্থ দীর্ঘ অক্ষের সমষ্টি, যা মস্তিষ্কের দূরবর্তী অংশে সংকেত প্রেরণ করে। উভয়ই মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য।
এনএইচএসের নির্দেশিকা অনুযায়ী, HRT মেনোপজের শারীরিক উপসর্গ যেমন ঘুমের সমস্যা ও গরমের ঝাঁকুনি কমাতে বিবেচিত হতে পারে। তবে থেরাপি শুরু করার আগে রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করা জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, HRT ব্যবহারকারী নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি বেশি হতে পারে, যদিও এটি পূর্বে বিদ্যমান মানসিক সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
গবেষকরা মেনোপজ ও HRT এর মস্তিষ্ক, স্মৃতি ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব সম্পর্কে এখনও সীমিত জ্ঞান রয়েছে বলে স্বীকার করেন। ভবিষ্যতে আরও বিশদ গবেষণা প্রয়োজন, যাতে হরমোন পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
সহ-গবেষক ড. ক্রিস্টেল ল্যাংলি জোর দিয়ে বলেন, “মেনোপজের সময় শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও সম্যক দৃষ্টি দেওয়া দরকার। নারীরা তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে ও সহায়তা নিতে কোনো লজ্জা অনুভব করা উচিত নয়।” এই বক্তব্য মেনোপজের সময় মানসিক সহায়তার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
সারসংক্ষেপে, মেনোপজের সময় মস্তিষ্কের ধূসর পদার্থের হ্রাস এবং আলঝেইমার‑সদৃশ পরিবর্তন নারীদের ডিমেনশিয়া ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যদিও HRT এই ক্ষয় রোধে কার্যকর নয়। নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল মেনোপজের শারীরিক ও মানসিক লক্ষণগুলোকে সমন্বিতভাবে মোকাবেলা করা এবং প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা নেওয়া। ভবিষ্যতে আরও গবেষণা এই ক্ষেত্রকে স্পষ্ট করবে, তবে এখনই নারীদেরকে তাদের স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন থাকতে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নিতে উৎসাহিত করা উচিত।



