মিনিয়াপোলিসে আইসিই এজেন্টের হাতে অ্যালেক্স প্রেট্টি নিহত হওয়ার পর, ইলেকট্রনিক সঙ্গীতশিল্পী মোবি ২৬ জানুয়ারি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে নাগরিকদের কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে তা ব্যাখ্যা করেন। তিনি ঘটনাটিকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংকটের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন এবং তৎক্ষণাৎ কর্মের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
ভিডিওতে মোবি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের প্রশ্ন হওয়া উচিত কেবল রাগ ও ভয় প্রকাশ নয়, বরং আমরা কীভাবে এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে পারি”। তিনি রাগকে নিষ্ক্রিয়তা নয়, সক্রিয়তার ইঞ্জিন হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।
প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তিনি প্রতিবাদকে মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন, যা সংবিধানে নিশ্চিত এবং বর্তমান প্রশাসন তা হ্রাস করার চেষ্টা করছে। মোবি বলেন, “প্রতিবাদ আমাদের সংবিধানিক অধিকার, এবং এটি ব্যবহার না করলে আমরা নিজেরাই অধিকার হারিয়ে ফেলব”।
এরপর তিনি ভোটের গুরুত্বের ওপর জোর দেন, শুধু আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে নয়, বরং বছরের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিশেষ নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রতিটি ভোট আমাদের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখে, তাই সব নির্বাচনে সক্রিয় থাকা জরুরি”।
মোবি এছাড়াও ট্রাম্প ও আইসিইকে সমর্থনকারী কর্পোরেশনগুলোকে লক্ষ্য করে বয়কটের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “যে কোম্পানিগুলো ট্রাম্প ও আইসিইকে সমর্থন করে, তাদের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করা আমাদের শক্তি বাড়াবে”।
অধিকন্তু, তিনি ট্রাম্পের বিরোধী ও আইসিই বিরোধী রাজনীতিবিদদের সমর্থন করার পরামর্শ দেন, পাশাপাশি সক্রিয় কর্মী ও সমবায় গোষ্ঠীর সঙ্গে সংযুক্ত থাকার আহ্বান জানান। স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন, যাতে দীর্ঘমেয়াদে সক্রিয়তা বজায় রাখা যায়।
মোবি জো স্ট্রামারের কথাকে উদ্ধৃত করে বলেন, রাগকে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে তা শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে। তিনি এই ধারণা দিয়ে সক্রিয়তাকে ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তরিত করার পরামর্শ দেন।
মোবির সঙ্গে একই সময়ে ইলেকট্রনিক সঙ্গীতশিল্পী সেথ ট্রক্সলারও একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে তিনি মানুষকে আরও বেশি সহানুভূতি ও ভালোবাসা প্রদর্শনের আহ্বান জানান। ট্রক্সলার উল্লেখ করেন, “বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে সম্মান ও সহানুভূতি দিয়ে আচরণ করা দরকার”।
অন্য শিল্পী অলিভিয়া রড্রিগো, ফিনিয়াস এবং বিলি ইলিশও এই ঘটনার পর তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন। বিলি ইলিশ বিশেষ করে ২৬ জানুয়ারি একটি পোস্টে সহ-সেলিব্রিটিদেরকে এই বিষয়ে কথা বলতে উৎসাহিত করেন, “আমাদের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কথা বলা উচিত”।
আইসিইয়ের মিনিয়াপোলিসে উপস্থিতি এবং অ্যালেক্স প্রেট্টির মৃত্যু নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে যে এজেন্ট স্বরক্ষার জন্য কাজ করেছে, এবং প্রেট্টি তার হাতে বন্দুক নিয়ে হুমকি দিচ্ছিল। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীদের রেকর্ড করা ভিডিওগুলো দেখায় যে প্রেট্টি কোনো হুমকি দেয়নি এবং তার মৃত্যুর মুহূর্তে তিনি শান্ত ছিলেন।
এই ভিডিওগুলো প্রকাশের পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে নাগরিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো আইসিইয়ের কার্যক্রমের ওপর কঠোর সমালোচনা প্রকাশ করেছে এবং দায়িত্বশীল তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
মোবি এবং অন্যান্য শিল্পীদের আহ্বান অনুসরণ করে, পাঠকদের ভোটের মাধ্যমে রাজনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণ, বয়কটের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি এবং স্ব-যত্নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সক্রিয়তা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলোকে একত্রে ব্যবহার করলে সমাজে পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাড়বে বলে তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন।



