যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে গুগল গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের গোপনীয়তা লঙ্ঘন অভিযোগে ৬৮ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে। মামলাটি ব্যবহারকারীদের অভিযোগের উপর ভিত্তি করে গঠিত, যেখানে বলা হয়েছে যে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট তাদের কথোপকথন অনিচ্ছাকৃতভাবে শোনে এবং তা ভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে। সমঝোতা শর্তাবলী এখন বিচারক বেথ ল্যাবসন ফ্রিম্যানের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
মামলায় দাবি করা হয়েছে যে গুগল গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহারকারীর কথোপকথনকে ভুলভাবে সক্রিয় শব্দ হিসেবে চেনে, ফলে ব্যবহারকারী স্পষ্টভাবে না বললেও মাইক্রোফোন চালু হয়ে যায়। এই সময়ে শোনা ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন আর্থিক বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়, পরে লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। অভিযোগকারী দল এই তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘনকে মূল অভিযোগ হিসেবে তুলে ধরেছে।
গুগল গুগল এই মামলায় কোনো দোষ স্বীকার করেনি, তবে আদালতে লিটিগেশন খরচ ও ঝুঁকি কমাতে সমঝোতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সমঝোতার শর্তে গুগল গুগল ৬৮ মিলিয়ন ডলার একত্রে প্রদান করবে, যা প্রভাবিত ব্যবহারকারীদের মধ্যে সমানভাবে বিতরণ করা হবে। সমঝোতা চূড়ান্তভাবে কার্যকর হতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের জেলায় বিচারক বেথ ল্যাবসন ফ্রিম্যানের অনুমোদন প্রয়োজন, যা আগামী সপ্তাহে প্রত্যাশিত।
গুগল গুগল সম্প্রতি গুগল গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে দূরে সরে নতুন জেমিনি (Gemini) নামের এআই টুলে রূপান্তরিত হচ্ছে। জেমিনি মূলত চ্যাটবট ও জেনারেটিভ এআই ফিচার প্রদান করে, তবে গোপনীয়তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এখনও বিদ্যমান। গুগল গুগল উল্লেখ করেছে যে নতুন সিস্টেমে ডেটা সংগ্রহের নীতি পূর্বের তুলনায় কঠোর, তবে ব্যবহারকারীর স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি এখনও আলোচনার কেন্দ্রে।
অ্যাপল গুগল গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের মতোই সেরির (Siri) গোপনীয়তা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। ২০১৯ সালে সেরি সম্পর্কিত একই ধরনের অভিযোগে অ্যাপল ৯৫ মিলিয়ন ডলার সমঝোতা করেছে, যা জানুয়ারি ২০২৫-এ সম্পন্ন হয়। উভয় কোম্পানির ক্ষেত্রে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের অপ্রত্যাশিত শোনার ঘটনা ব্যবহারকারীকে অস্বস্তিকর করে তুলেছে এবং গোপনীয়তা রক্ষার জন্য কঠোর নীতি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
এই ধরনের সমঝোতা প্রযুক্তি শিল্পে গোপনীয়তা সংক্রান্ত আইনি ঝুঁকির বাস্তব উদাহরণ হিসেবে কাজ করে। ব্যবহারকারীরা এখন ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহার করার সময় ডেটা কীভাবে সংগ্রহ ও ব্যবহার হয় তা সম্পর্কে আরও সতর্ক। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোকে ডেটা ব্যবহারের স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং ব্যবহারকারীর স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া তথ্য সংগ্রহ বন্ধ করতে চাপ বাড়ছে।
গুগল গুগল ভবিষ্যতে জেমিনির মাধ্যমে ভয়েস ইন্টারফেসকে পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা করলেও, গোপনীয়তা রক্ষার জন্য প্রযুক্তিগত ও নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অপরিবর্তিত থাকবে। ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষা করা না হলে আইনি চ্যালেঞ্জ এবং আর্থিক ক্ষতি উভয়ই বাড়তে পারে, যা কোম্পানির সুনাম ও বাজারের বিশ্বাসকে প্রভাবিত করে।
সারসংক্ষেপে, গুগল গুগল গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের গোপনীয়তা লঙ্ঘন মামলায় ৬৮ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, এবং একই সময়ে গুগল গুগল জেমিনি নামে নতুন এআই সেবা চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই ঘটনা প্রযুক্তি শিল্পে গোপনীয়তা নীতির পুনর্বিবেচনা এবং ব্যবহারকারীর অধিকার সুরক্ষার গুরুত্বকে পুনরায় জোরদার করেছে।



