হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে এভারটন ও লিডস ১-১ সমতায় শেষ করেছে। ম্যাচের প্রধান ঘটনা ছিল থিয়ের্নো ব্যারির সমতা গোল, যা লিডসের জেমস জাস্টিনের প্রারম্ভিক স্কোরকে বাতিল করে। দু’দলই পয়েন্ট ভাগাভাগি করে, তবে গেমের প্রবাহে উভয়েরই উত্থান-পতন দেখা যায়।
লিডসের খেলোয়াড়রা সপ্তাহান্তে নটিংহাম ফরেস্ট ও ওয়েস্ট হ্যামের সঙ্গে ফলাফল ঘনিয়ে আসার পর চাপের মুখে ছিল, তবে এভারটনের মাঠে তারা কোনো নার্ভাসনেসের চিহ্ন দেখায়নি। ড্যানিয়েল ফার্কের দল দ্রুত আক্রমণ চালিয়ে প্রথমার্ধে জেমস জাস্টিনের গোলের মাধ্যমে লিডসকে নেতৃত্ব দেয়। এই গোলটি ম্যাচের প্রথম স্কোর হয়ে লিডসের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
প্রথমার্ধে এভারটন বলের অধিকাংশ সময় দখল করে, তবে শেষ পর্যন্ত গোলের সুযোগে রূপান্তর করতে পারেনি। ডেভিড ময়েসের দল কৌশলগত পরিবর্তন না করা পর্যন্ত তারা দ্বিতীয়ার্ধে সমান করার সুযোগ পায় না। এভারটনের আক্রমণাত্মক চাপ সত্ত্বেও গল পোস্টে শট গিয়ে থামিয়ে দেয়।
খেলায় প্রবেশের আগে এভারটন টিম টমি রাইটের স্মরণে এক মুহূর্তের নীরবতা রাখে। রাইট, যিনি ১৯৬৬ সালে তার প্রিয় ক্লাবের সঙ্গে এফএ কাপ জিতেছিলেন এবং ১৯৭০ সালে লিগ শিরোপা অর্জন করেছিলেন, এছাড়া ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছিলেন। তার মৃত্যুর পর ক্লাবের এই সম্মানসূচক অনুষ্ঠানটি ভক্তদের মধ্যে গভীর স্নেহ জাগায়।
ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে ইলিমান ন্দিয়ায় এবং ইদ্রিসা গ্যুয়ে সেনোগালের সঙ্গে আফ্রিকান কাপ অফ নেশনস জয় উদযাপনের জন্য উপস্থাপনা করা হয়। তাদের আন্তর্জাতিক সাফল্য এভারটনের খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে জ্যাক গ্রিলিশের ফুটের ভাঙ্গনের কারণে দীর্ঘ সময়ের জন্য অনুপস্থিতি দলকে প্রভাবিত করে, তবে ন্দিয়ায়য়ের বামফ্ল্যাঙ্কে চালনা কিছুটা সামঞ্জস্য আনে।
দ্বিতীয়ার্ধে ডেভিড ময়েসের পরিবর্তন দলকে নতুন রূপ দেয়। তিনি কয়েকজন খেলোয়াড়কে বদলিয়ে ফরমেশন পরিবর্তন করেন, যা এভারটনের আক্রমণকে পুনরুজ্জীবিত করে। পরিবর্তনের পর এভারটনের খেলোয়াড়রা মাঠে আরও সংগঠিত হয়ে উঠে, এবং লিডসের রক্ষার ফাঁকটি কাজে লাগায়।
থিয়ের্নো ব্যারির সমতা গোলটি এই পরিবর্তনের পরই আসে। তিনি জাস্টিনের গোলের পরই সুযোগ পান এবং নিখুঁত শুট দিয়ে বলটি জালে পাঠিয়ে স্কোর সমান করেন। ব্যারির এই গোলটি এভারটনের পয়েন্ট রক্ষার মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়ায়। তার পারফরম্যান্স দলকে আত্মবিশ্বাস প্রদান করে।
লিডসের মিডফিল্ডে ফার্কের পাঁচজন খেলোয়াড়ের চলাচল এবং ব্রেনডেন আরনসনের দ্রুত পাসিং এভারটনের রক্ষাকে বারবার বিভ্রান্ত করে। তবে এভারটনের রক্ষণাত্মক গঠন পরিবর্তনের পর লিডসের আক্রমণিক চাপ কমে যায়। মিডফিল্ডের এই গতি-গতির খেলায় উভয় দলেরই সাময়িক অসুবিধা দেখা যায়।
ডমিনিক ক্যালভার্ট-লুইনের জন্য ম্যাচটি বিশেষ ছিল, কারণ তিনি প্রথমবারের মতো তার প্রাক্তন ক্লাবের মুখোমুখি হন। ভক্তদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া সত্ত্বেও, তিনি প্রথম সুযোগে অ্যান্টন স্ট্যাচের ফ্লিকের ওপর শট মারেন, যা জর্ডান পিকফোর্ড চমৎকারভাবে থামিয়ে দেন। এই মুহূর্তটি ক্যালভার্ট-লুইনের আক্রমণাত্মক উপস্থিতি নির্দেশ করে।
দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে লিডসের চাপ অব্যাহত থাকলেও এভারটন রক্ষণে দৃঢ় থাকে। পিকফোর্ডের ধারাবাহিক সেভ এবং ডিফেন্সের সমন্বয় দলকে পয়েন্ট রক্ষা করতে সাহায্য করে। শেষ সিগনালে কোনো অতিরিক্ত গোল না হয়েই ম্যাচটি সমাপ্ত হয়।
এভারটন এই পয়েন্টের মাধ্যমে তাদের হোম ফর্মে সামান্য উন্নতি পায়, যদিও সামগ্রিকভাবে তাদের পারফরম্যান্স এখনও উন্নতির প্রয়োজন। লিডসের জন্য এই ড্রটি তাদের আক্রমণাত্মক শক্তি বজায় রাখে, তবে তারা এখনও জয় অর্জনে অক্ষম।
পরবর্তী সপ্তাহে এভারটন প্রিমিয়ার লিগের পরবর্তী ম্যাচে নটিংহাম ফরেস্টের মুখোমুখি হবে, আর লিডসের পরবর্তী প্রতিপক্ষ হবে ওয়েস্ট হ্যাম। উভয় দলই এই পয়েন্টকে ভিত্তি করে পরের গেমে অগ্রগতি করার লক্ষ্য রাখবে।



