মিনিয়াপোলিসে গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টের গুলিবর্ষণ থেকে অ্যালেক্স প্রেট্টি নামের নাগরিকের মৃত্যু ঘটার পর, ভিনোদ খোসলা ভেঞ্চার ফার্মের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং কেভিন রাবোইসের সহকর্মী কেভিন রাবোইসের মন্তব্যগুলোকে তীব্রভাবে নিন্দা করেন। রাবোইস, যিনি কেভিন রাবোইসের পার্টনার হিসেবে পরিচিত, একাধিক পোস্টে শিকারের দোষারোপ করে এবং আইসিইর কাজকে সমর্থন জানান, যা খোসলা ভেঞ্চারসের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি করে।
অ্যালেক্স প্রেট্টি, যিনি মিনিয়াপোলিসে একটি প্রতিবাদে অংশগ্রহণের সময় গুলিবর্ষণের শিকার হন, তার মৃত্যুর খবর পুরো যুক্তরাষ্ট্রে শক সৃষ্টি করে। ঘটনাটি ঘটার পর আইসিই এজেন্টের গুলিবর্ষণকে অনধিকারিক গুলিবর্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং শিকারের পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে।
রাবোইসের একাধিক সামাজিক মাধ্যম পোস্টে তিনি শিকারের আচরণকে ‘ফেলনি’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং দাবি করেন যে শিকারী তার অস্ত্র বের করার চেষ্টা করছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নির্দোষ ব্যক্তিকে গুলি করে না এবং আইসিইর কাজকে ন্যায়সঙ্গত হিসেবে উপস্থাপন করেন। এছাড়া তিনি যুক্তি দেন যে প্রথম, দ্বিতীয় ও চতুর্থ সংশোধনী অধিকারগুলো আইন প্রয়োগের কাজের মধ্যে হস্তক্ষেপকে রক্ষা করে না, এবং মিনিয়াপোলিসের পুলিশকে বিশ্বাসযোগ্য সূত্র হিসেবে স্বীকার করেন না।
এই ধরনের মন্তব্যের পর কেভিন রাবোইসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনোদ খোসলা এবং পার্টনার ইথান চোই উভয়েই প্রকাশ্যে রাবোইসের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্নতা জানিয়ে দেন। চোই একটি পোস্টে স্পষ্ট করে বলেন যে রাবোইসের মতামত কেভিন রাবোইসের ভেঞ্চার ফার্মের সকল কর্মচারীর বা তার নিজের দৃষ্টিভঙ্গি নয়, এবং মিনিয়াপোলিসে ঘটিত ঘটনাকে তিনি ‘স্পষ্টভাবে ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। খোসলা নিজে কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি না দিয়ে, তবে রাবোইসের পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে তার সামাজিক নেটওয়ার্কে সমর্থন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দেখা যায়।
রাবোইসের মন্তব্যের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প সমর্থক গোষ্ঠী থেকে সমর্থন ও সমালোচনা উভয়ই প্রকাশ পায়। কিছু সমর্থক রাবোইসের অবস্থানকে প্রশংসা করেন, অন্যদিকে মানবাধিকার কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তার মন্তব্যকে নিন্দা করেন এবং আইসিইর গুলিবর্ষণকে ‘অবৈধ’ বলে চিহ্নিত করেন। তদুপরি, কিছু স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা রাবোইসের সঙ্গে যুক্ত হওয়া কোম্পানিগুলোকে ‘ক্যাপ টেবিল’ থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দেন, যা কেভিন রাবোইসের পার্টনারশিপের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
এই বিতর্কের ফলে কেভিন রাবোইসের পার্টনারশিপের ভবিষ্যৎ এবং ভিনোদ খোসলা ভেঞ্চারসের বিনিয়োগ নীতির ওপর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। চোইর প্রকাশ্য বিচ্ছিন্নতা রাবোইসের মন্তব্যের প্রভাবকে সীমিত করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে, এবং খোসলা ভেঞ্চারসের অভ্যন্তরীণ নীতি ও পাবলিক ইমেজ রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপটি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন। শেষ পর্যন্ত, আইসিই শুটিং এবং রাবোইসের সমর্থনমূলক মন্তব্যের পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও বিনিয়োগ পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে ট্রাম্প সমর্থক ও মানবাধিকার গোষ্ঠীর মধ্যে মতবিরোধের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



