মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিসে শনিবার সন্ধ্যায় অভিবাসন ও সীমানা নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ICE) পরিচালিত অভিযানের সময় দুইজনের মৃত্যু ঘটায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য-স্তরের রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাস্তায় কোনো সহিংসতা বা প্রাণহানি চান না, তবে ঘটনাটির দায় মিনেসোটা গণতান্ত্রিক দলের নেতৃত্বের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন।
লেভিটের মতে, রাস্তায় মানুষ আহত বা নিহত হওয়া কেউই কামনা করে না এবং ট্রাম্পও সহিংসতার বিরোধী। তবে তিনি যুক্তি দেন, মিনেসোটা গণতান্ত্রিক দলের ইচ্ছাকৃত বিরোধিতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের অমনোযোগের ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি গভার্নর টিম ওয়ালজ এবং মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রেকে সরাসরি দায়ী করেছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ICE এজেন্টদের দ্বারা পরিচালিত অপারেশনে ৩৭ বছর বয়সী অ্যালেক্স প্রেটি গুলি হয়ে মারা যান। প্রেটি একজন মার্কিন নাগরিক এবং নিবন্ধিত নার্স ছিলেন, যিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। হোয়াইট হাউস এই ঘটনাকে “দুঃখজনক ট্র্যাজেডি” বলে বর্ণনা করেছে এবং প্রেটির পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছে। লেভিট উল্লেখ করেন, কোনো পিতামাতার জন্য সন্তান হারানো কল্পনাতীত কষ্টের বিষয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে না থাকায় পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত, এ বিষয়ে সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতি না থাকলে ICE এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পেছনে তার সাম্প্রতিক নির্দেশনা রয়েছে, যেখানে তিনি মিনিয়াপোলিসে ICE-র জোরালো অভিযান চালু করার আদেশ দিয়েছিলেন।
স্থানীয় প্রশাসনের আপত্তি সত্ত্বেও, সশস্ত্র এবং মুখোশধারী এজেন্টদের উপস্থিতি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। গণতান্ত্রিক দলীয় নেতারা এই পদক্ষেপকে অপ্রয়োজনীয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ বলে সমালোচনা করছেন, যেখানে ট্রাম্পের সমর্থকরা যুক্তি দিচ্ছেন যে কঠোর অভিবাসন নীতি নিরাপত্তা বজায় রাখতে অপরিহার্য।
এই ঘটনার ফলে মিনেসোটা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে। গণতান্ত্রিক দলের নেতৃত্বের সঙ্গে ফেডারেল সংস্থার সংঘাতের ফলে ভবিষ্যতে কংগ্রেসে অভিবাসন নীতি নিয়ে তীব্র বিতর্কের সম্ভাবনা বাড়ছে। ট্রাম্পের প্রশাসন এবং স্থানীয় গণতান্ত্রিক নেতাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, বিশেষ করে নিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে, রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই ধরনের ঘটনা পরবর্তী নির্বাচনী চক্রে উভয় পক্ষের ভোটার ভিত্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। গণতান্ত্রিক দলীয় নেতারা যদি স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমর্থন না পায়, তবে তারা ফেডারেল নীতি পরিবর্তনের জন্য আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের সমর্থকরা এই ঘটনাকে অভিবাসন নীতি কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা হিসেবে উপস্থাপন করে ভোটারদের মধ্যে তাদের ভিত্তি শক্তিশালী করতে চাইবে।
অভিবাসন নীতি, ফেডারেল-রাজ্য সম্পর্ক এবং স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই জটিল মিশ্রণ, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। হোয়াইট হাউসের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট: সহিংসতা না চাইতে, তবে দায়িত্বকে গণতান্ত্রিক দলের নেতৃত্বের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। এই দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয়মূলক আলোচনার নতুন রূপরেখা তৈরি করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, মিনেসোটা অভিবাসন অভিযানে দুইজনের মৃত্যু এবং ট্রাম্পের দায়ারোপের পরিণতি, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধিতে নতুন মোড় এনে দিচ্ছে। উভয় পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট, এবং পরবর্তী সপ্তাহে কংগ্রেস ও রাজ্য স্তরে এই বিষয়টি নিয়ে আরও তীব্র বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।



