ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন বিরোধী নীতি প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষিত হয়, যার অধীনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) ব্যাপক ডিপোর্টেশন চালু করেছে। শপথগ্রহণের পরপরই ট্রাম্প ডিপোর্টেশনকে তার ‘ফ্ল্যাগশিপ’ নীতি হিসেবে উল্লেখ করেন, যা পূর্বের কোনো মেয়াদের চেয়ে বেশি বহিষ্কারের লক্ষ্য রাখে। এক বছরের মধ্যে ICE ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) মিলিয়ে কমপক্ষে ৩৫০,০০০ অডিটেড নয় এমন ব্যক্তিকে দেশে থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যা সরকারী নীতি ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের সমন্বয়কে নির্দেশ করে।
ICE এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাড়ি, কর্মস্থল এবং পাবলিক পার্কসহ বিভিন্ন স্থানে রেইড চালিয়ে এসেছে। রাত্রিকালীন অপারেশনে অডিটেড নয় এমন কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ফলে দেশব্যাপী প্রতিবাদ ও প্রতিবন্ধকতার ঢেউ তুলেছে। একই সঙ্গে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রায়শই আদালতের ওয়ারেন্ট ছাড়াই বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে, যা সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীকে লঙ্ঘন করার অভিযোগে আইনি বিশেষজ্ঞদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
ডিপোর্টেশন কার্যক্রমে ICE যে প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ব্যবহার করে, তার মধ্যে অন্যতম হল সেল-সাইট সিমুলেটর। এই ডিভাইসগুলো মোবাইল টাওয়ার হিসেবে কাজ করে, কাছাকাছি থাকা মোবাইল ফোনকে নিজস্ব নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করতে বাধ্য করে, ফলে ফোনের অবস্থান নির্ধারণ, কল ও টেক্সট পর্যবেক্ষণ এবং ইন্টারনেট ট্র্যাফিক আটক করা সম্ভব হয়। সেল-সাইট সিমুলেটরকে সাধারণত ‘স্টিংরেই’ বা ‘ইএমএসআই ক্যাচার’ বলা হয়; স্টিংরেই নামটি প্রথম বাজারে আসা একটি ব্র্যান্ডের উপর ভিত্তি করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স কন্ট্রাক্টর হ্যারিস (এল৩হ্যারিস) তৈরি করেছিল। ইএমএসআই ক্যাচার প্রযুক্তি মোবাইল ফোনের ইউনিক আইডেন্টিফায়ার (IMSI) সংগ্রহ করে, যা ফোনের মালিক সনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
গত দুই বছরে ICE টেকঅপস স্পেশালটি ভেহিকলস (TechOps Specialty Vehicles) নামের একটি কোম্পানির সঙ্গে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মোট মূল্য ১.৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি। এই কোম্পানি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য কাস্টমাইজড ভ্যান তৈরি করে, যা রেইড ও ডিপোর্টেশন অপারেশনের সময় ব্যবহার হয়; একক চুক্তি ৮০০,০০০ ডলারেরও বেশি মূল্যের। টেকঅপসের ভ্যানগুলো সাউন্ড-ইনসুলেশন, লকড ডোর, রিয়েল-টাইম যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উচ্চ পারফরম্যান্স ইঞ্জিন দিয়ে সজ্জিত, যা অপারেশনাল নিরাপত্তা ও গতি বাড়ায়।
সিভিল লিবার্টি সংগঠন ও মানবাধিকার সমিতি এই প্রযুক্তিগত ব্যবহারকে গোপনীয়তা ও নাগরিক স্বাধীনতার হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তারা দাবি করে, স্টিংরেই ও ইএমএসআই ক্যাচার ব্যবহার করে ফোনের ডেটা চুরি করা সংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে এবং এর জন্য স্পষ্ট আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন। আইনি বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বর্তমান আইন এই ধরনের ব্যাপক নজরদারিকে যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করে না, ফলে আদালতে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের হয়েছে।
ডিপোর্টেশন নীতি ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের সমন্বয় আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও কিছু রিপাবলিকান নেতা ইতিমধ্যে এই প্র্যাকটিসের মানবিক ও আইনি প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে অভিবাসন কঠোরতা সমর্থকরা যুক্তি দেন যে এই সরঞ্জামগুলো অপরাধী ও অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত সনাক্ত করতে অপরিহার্য। ফেডারেল সরকার এই প্রযুক্তি ও যানবাহনের ব্যবহারকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ ও ‘সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ’ এর অংশ হিসেবে রক্ষা করছে, তবে আদালতের রায় ও কংগ্রেসের তদারকি এই নীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
সারসংক্ষেপে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে ডিপোর্টেশনকে অগ্রাধিকার দিয়ে ICE যে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুলেছে, তা আইনি চ্যালেঞ্জ ও জনমত বিরোধের মুখে রয়েছে। পরবর্তী মাসে আদালতে চলমান মামলাগুলোর ফলাফল এবং কংগ্রেসের তদারকি ব্যবস্থা দেশের অভিবাসন নীতি ও নাগরিক অধিকারকে পুনর্গঠন করতে পারে।



