রামগঞ্জ উপজেলার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২৬ জানুয়ারি রাতের এক জনসভার সময় জাতীয় নাগরিক দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডকে “প্রতারণা প্যাকেজ” বলে সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্যাকেজের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে এবং দেশের আসল সংকট অর্থনৈতিক উন্নয়ন না হওয়ায়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সংকট কৃষক কার্ড বা ফ্যামিলি কার্ডের বিষয় নয়, বরং দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা প্রয়োজন। তিনি যুক্তি দেন, ঋণখেলাপি ও লুটেরাদের বিচারের আওতায় আনা না হলে বিনিয়োগের পরিবেশ গড়ে ওঠে না। এ জন্য জাতীয় নাগরিক দল পরিকল্পনা ও ইশতেহার প্রস্তুত করছে, যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং নারীর নিরাপত্তা বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান রহমানকে ইঙ্গিত করে বলেন, তাদের কিছু কর্মী নামাজের পর ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়ে কেন্দ্র দখল করে সিল মারার পাঁয়তারা করছে। তিনি আশ্বাস দেন, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা এসব ষড়যন্ত্র রোধে সক্রিয় থাকবে।
নাহিদ ইসলাম ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিনকে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বিঘ্নে পরিচালনা করার জন্য ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা ভোটকেন্দ্রের পাহারায় থাকবে বলে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ভোট প্রদান বাধা সৃষ্টি করা বা বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালানোর চেষ্টা করা ব্যক্তিদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
একই মঞ্চে জাতীয় নাগরিক দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া মিডিয়ার দলীয়করণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু মিডিয়া দালালি করলেও ফ্যাসিবাদকে রক্ষা করতে পারেনি, এবং দেশের জনগণ রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছে।
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক দলের লক্ষ্মীপুর‑১ আসনের প্রার্থী মাহবুব আলম, উপজেলা জামায়াতের আমির নাজমুল হাসান পাটোয়ারী, পৌর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাসান বান্না, জাতীয় নাগরিক দলের উপজেলা আহ্বায়ক মো. মাছুম বিল্লাহ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা আহ্বায়ক মিজানুর রহমান। অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দও সমাবেশে অংশ নেন।
এই জনসভার মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় নাগরিক দলের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করা এবং সরকারের বর্তমান সামাজিক কল্যাণ প্যাকেজের সমালোচনা করা। নাহিদ ইসলাম ও তার দলের অন্যান্য নেতারা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ভোটারদের নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।



