গ্রীসের পেলোপোনিস উপদ্বীপে ৪.৩০ লক্ষ বছর পুরনো দুইটি কাঠের হাতের সরঞ্জাম আবিষ্কৃত হয়েছে। এই বস্তুগুলো ৩০ মিটার গভীরতায় পাথর ও হাড়ের সাথে পাওয়া গিয়েছে এবং মানব পূর্বপুরুষদের কাঠের ব্যবহার সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
আবিষ্কারটি মারাথোউসা নামের একটি লিগনাইট (বাদামী কয়লা) খনিতে করা হয়েছে, যা প্রাচীনকালে একটি হ্রদতীরের অংশ ছিল। সময়ের সাথে হ্রদ শুকিয়ে গিয়ে আজকের খনি এলাকা হয়ে উঠেছে, তবে সেই সময়ের জলাবদ্ধ পরিবেশ কাঠকে দ্রুত পচা থেকে রক্ষা করেছে।
বস্তুগুলোকে এত গভীরে এবং জলাবদ্ধ মাটিতে সংরক্ষিত হওয়ায় কাঠের অবক্ষয় ধীর হয়েছে। গবেষকরা উল্লেখ করেন যে, এমন পরিবেশে কাঠের অণু দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থিতিশীল থাকে, ফলে এত পুরনো কাঠের টুকরা এখনও রূপে রয়ে গেছে।
প্রথম সরঞ্জামটি প্রায় ৮১ সেন্টিমিটার লম্বা একটি ডিগিং স্টিক, যা চারটি টুকরোতে ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। এটি মূলত পাতলা অ্যাল্ডার গাছের গুঁড়ি থেকে তৈরি বলে ধারণা করা হয়, যদিও চাপে বিকৃত হওয়ায় সঠিক প্রজাতি নির্ধারণ কঠিন।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্টিকের পৃষ্ঠে খোঁচা ও ঘষা চিহ্ন রয়েছে, যা মাটিতে খননের কাজের ইঙ্গিত দেয়। তাই এটি সম্ভবত প্রাচীন শিকারের গর্ত খোঁচা বা গাছের মূল উন্মোচনের জন্য ব্যবহার করা হতো।
বস্তুটির বয়স নির্ধারণে জিওম্যাগনেটিক বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যা ৪.৩ লক্ষ বছরের পুরনো হওয়ার নিশ্চিত করে। এই পদ্ধতিগুলো মাটির চৌম্বকীয় বৈশিষ্ট্য এবং কাঠের কাঠামোগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে সময় নির্ধারণ করে।
দ্বিতীয় কাঠের টুকরাটি মাত্র আট সেন্টিমিটার লম্বা এবং উইলোর গাছের কাঠ থেকে তৈরি। এর আকার ও আকৃতি স্পষ্টভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, তবে এর নির্দিষ্ট কাজ এখনও অজানা।
বিশ্লেষকরা অনুমান করেন, এই ছোট টুকরাটি বড় পাথর বা হাড়ের সরঞ্জামের সাথে যুক্ত হয়ে কোনো সূক্ষ্ম কাজ সম্পন্ন করতে ব্যবহার করা হতে পারে, যেমন শিকারের পরে গাছের শিকড় পরিষ্কার করা বা পাথরের ধার ধারালো করা।
মারাথোউসা খনিতে হাজার হাজার কাঠ, হাড় এবং পাথরের টুকরা পাওয়া গিয়েছে, যা প্রাচীন মানব সমাজের দৈনন্দিন জীবনের বহুমুখী দিককে প্রকাশ করে। এই নতুন কাঠের সরঞ্জামগুলো পূর্বের আবিষ্কারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখায় যে, মানব পূর্বপুরুষরা শত শত হাজার বছর ধরে কাঠকে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করেছে।
কাঠের সরঞ্জামগুলো অস্ত্র, শিকারের যন্ত্র এবং সম্ভবত আশ্রয়ের নির্মাণে ব্যবহৃত হতে পারে। এ ধরনের প্রমাণ মানবের প্রযুক্তিগত বিকাশের প্রাথমিক স্তরে কাঠের গুরুত্বকে তুলে ধরে, যা আগে কেবল পাথর ও হাড়ের ওপর কেন্দ্রীভূত গবেষণার তুলনায় একটি নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করে।
এই আবিষ্কারটি মানবের প্রাচীনতম প্রযুক্তিগত দক্ষতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে আলোকপাত করে এবং ভবিষ্যতে আরও গভীর স্তরে গবেষণার দরজা খুলে দেয়। পাঠকরা কি ভাবছেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের দৈনন্দিন জীবনে আর কী কী অদৃশ্য সরঞ্জাম কাজ করতো?



