ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থিত উবিসফটের প্রধান কার্যালয়ে প্রায় দুইশো কর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা বর্তমান কর্মীবাহিনীর প্রায় বিশ শতাংশের সমান। এই পদক্ষেপটি কোম্পানির সাম্প্রতিক আর্থিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে এবং কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া ফ্রান্সের রুপ্তুর কনভেনশনেল কোলেক্টিভ (RCC) পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
RCC পদ্ধতি অনুসারে, কর্মীরা স্বেচ্ছায় সমষ্টিগত সমঝোতার মাধ্যমে পারস্পরিক সমাপ্তি চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে। উবিসফটের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন যে, এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই প্রস্তাবটি কেবলমাত্র একটি সম্ভাবনা হিসেবে রয়ে গেছে।
কোম্পানি স্পষ্ট করে বলেছে যে, প্রস্তাবটি এখনও আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে এবং সমষ্টিগত চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। কর্মীদের স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণের ওপর নির্ভরশীল এই প্রক্রিয়ায়, যদি নির্ধারিত সংখ্যক কর্মী চুক্তিতে সম্মত না হন, তবে উবিসফটের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, উবিসফট সম্প্রতি কর্মীদেরকে সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিসে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে। এই নতুন নীতি কর্মীদের মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে চাকরি ছাড়ার প্রবণতা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যখন স্বেচ্ছায় ছাঁটাইয়ের প্রস্তাব মুলত স্বেচ্ছা ভিত্তিক।
উবিসফটের আর্থিক সমস্যার সূচক হিসেবে, গত মাসে হ্যালিফ্যাক্স স্টুডিও বন্ধ করা হয়, যা কর্মীরা ইউনিয়ন গঠন করার ১৬ দিন পরেই ঘটেছিল। এই বন্ধের ফলে কোম্পানির গেম ডেভেলপমেন্ট ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং কর্মীসংখ্যা কমে গেছে।
এরপরের সপ্তাহে স্টকহোম স্টুডিওও বন্ধ করা হয় এবং উবিসফটের অধীনে থাকা অন্যান্য ডেভেলপারদের পুনর্গঠন পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়। এই ধারাবাহিক স্টুডিও বন্ধ এবং পুনর্গঠন উদ্যোগগুলো কোম্পানির খরচ কমানোর বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গেম প্রকাশের ক্ষেত্রে, উবিসফট ছয়টি প্রকল্প বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত “প্রিন্স অফ পার্সিয়া: স্যান্ডস অফ টাইম” রিমেক অন্তর্ভুক্ত। বাকি পাঁচটি গেমের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে এই বাতিলগুলো কোম্পানির পোর্টফোলিওতে বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাতিলের পাশাপাশি, উবিসফট সাতটি গেমের প্রকাশের সময়সূচি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে, “বিয়ন্ড গুড অ্যান্ড ইভিল ২” গেমটি এখনও বাতিলের তালিকায় নেই, যা গেম প্রেমিকদের জন্য একমাত্র আশার আলো হিসেবে রয়ে গেছে।
শেয়ারবাজারে উবিসফটের শেয়ারমূল্য ২০২১ সালে প্রতি শেয়ার প্রায় বিশ ডলারের শীর্ষে পৌঁছেছিল, কিন্তু বর্তমান সময়ে তা প্রায় এক ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে। এই তীব্র মূল্যহ্রাস কোম্পানির আর্থিক স্বাস্থ্যের অবনতি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাসের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
উবিসফটের এই ধারাবাহিক খরচ কমানোর পদক্ষেপ এবং গেম বাতিলের সিদ্ধান্তগুলো শিল্পের মধ্যে কোম্পানির অবস্থানকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে, যদি কর্মী ছাঁটাই এবং স্টুডিও বন্ধের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে উবিসফটের ভবিষ্যৎ গেম ডেভেলপমেন্ট ক্ষমতা এবং আয় উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, উবিসফটের প্যারিস হেডকোয়ার্টারে প্রস্তাবিত ২০০ কর্মী ছাঁটাই, স্টুডিও বন্ধ, গেম বাতিল এবং শেয়ারমূল্যের ধারাবাহিক পতন কোম্পানির আর্থিক সংকটের গভীরতা প্রকাশ করে। এই পরিস্থিতি কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী কৌশল এবং বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।



