শের‑এ‑বাংলা ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সবুজ আউটফিল্ড এবং একাডেমি মাঠে সোমবার অস্বাভাবিক নীরবতা দেখা গিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা ‘ড্রিফট’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে, কারণ বিশ্বকাপের স্থান হারিয়ে যাওয়া এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) এর মধ্যে ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মতবিরোধের ফলে আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বকাপের সুযোগ না থাকায় প্রথম ডিভিশন লিগ ১২টি দলে সীমিত ফরম্যাটে চালু হলেও, প্রিমিয়ার লিগের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে। এই সময়ে BCB কর্মকর্তাদের মধ্যে বিদ্যমান সুবিধাসমূহের সংস্কার নিয়ে আলোচনা শোনা গিয়েছে, তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের কারণে পরিকল্পনা স্থগিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএলপি (BPL) শেষ হওয়ার পর সাধারণত শের‑এ‑বাংলা মাঠে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা ফিরে এসে আসন্ন সিরিজের প্রস্তুতি নেয়, মিডিয়া কভারেজ বাড়ে এবং স্কোয়াড নির্বাচন নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়। তবে এই বছর বিশ্বকাপের অনুপস্থিতি কারণে ঐসব কার্যক্রমের ঘাটতি স্পষ্ট।
ঢাকা মেট্রোপলিসের ক্রিকেট কমিটি (CCDM) প্রথম ডিভিশন লিগের ক্লাব‑বনাম‑BCB বিরোধে বাদ পড়া এবং BPL নিলাম থেকে অপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের জন্য একটি T20 চ্যালেঞ্জ কাপ আয়োজন করেছে। তবু জাতীয় দলের খেলোয়াড় এবং শীর্ষ সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের সুযোগ সীমিত রয়ে গেছে।
রবিবার রাতে BCB সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের অস্ট্রেলিয়া সফরের গুজব ছড়িয়ে পড়ে, তবে সোমবার সকালে তিনি BCB অফিসে ম্যাচ রেফারির প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য উপস্থিত হন। গুজবের পরেও বিভিন্ন উপস্থাপনা, মিটিং এবং প্রকল্প পরিকল্পনা মাঠে খেলোয়াড় না থাকলে স্থবিরতা দূর করতে পারে না।
অধিকন্তু, ব্রাদার্স ইউনিয়নের কিছু খেলোয়াড় স্টেডিয়ামে এসে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে, যা বর্তমান অবস্থা নিয়ে তাদের অসন্তোষের সূচক। এই অভিযোগের বিশদ এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে এটি ক্রিকেটের কার্যকরী পরিবেশের ওপর চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বর্তমানে বিশ্বকাপের অনুপস্থিতি, BCB‑ICC নিরাপত্তা মতবিরোধ, নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রভাব এবং সীমিত লিগ ফরম্যাটের সমন্বয়ে এক ধীর গতি বজায় রেখেছে। মাঠে খেলোয়াড়ের অভাব এবং পরিকল্পনা স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনা ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিতে বাধা সৃষ্টি করছে।



