ডিলান ওব্রায়েন, যিনি টিনেজের জনপ্রিয়তা থেকে চরিত্র অভিনেতা হিসেবে নিজের স্থান গড়ে তুলেছেন, থ্রিলার ‘সেন্ড হেল্প’ এর শুটিং কাজের মাঝামাঝি থাইল্যান্ডের গরম ও আর্দ্র সমুদ্রতটে কাজ করছেন। এই প্রকল্পটি তার বৈচিত্র্যময় ফিল্মোগ্রাফির নতুন এক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শুটিং চলাকালীন ওব্রায়েন র্যাচেল ম্যাকঅ্যাডামসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। দুজনের মধ্যে কাজের সময় সৃষ্ট বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক সমঝোতা, ছবির সৃজনশীল দিককে আরও সমৃদ্ধ করেছে। উভয়ই সমুদ্রের তীরে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে দৃশ্যগুলোতে স্বাভাবিকতা আনতে সক্ষম হয়েছেন।
পরিচালক স্যাম রেইমি, যিনি হরর ও অ্যাডভেঞ্চার জঁরে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন, ওব্রায়েনের সঙ্গে কাজের সময় তার দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেছেন। রেইমি ওব্রায়েনকে এমন একটি দৃশ্যে অংশ নিতে বলেছিলেন যেখানে এক সিঙ্গেল-টেক শটে একটি পোকা খেতে হবে। এই অনুরোধটি শুটিংয়ের চূড়ান্ত মুহূর্তে উপস্থাপিত হয়।
ওব্রায়েন প্রথমে এই অনুরোধে অবাক হন, তবে দ্রুতই তার পেশাদারিত্ব ও রেইমির ওপর বিশ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এটি নিরাপদ এবং পরীক্ষিত, তাই কোনো সমস্যা নেই।” তার মুখে হাসি ফুটে ওঠে, যদিও তিনি এই ধরনের চ্যালেঞ্জের আগে কখনোই জানতেন না।
পরবর্তীতে রেইমি স্পষ্ট করেন যে পোকাটি আসলে নকল, কোনো বাস্তব পোকা নয়। তবু ওব্রায়েনের প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট হয় যে, তিনি সত্যিকারের পোকা খাওয়ার কথাও স্বীকার করতেন, যদি তা প্রয়োজন হতো। এই ঘটনা তার কাজের প্রতি অঙ্গীকার এবং সীমা অতিক্রমের ইচ্ছা প্রকাশ করে।
‘সেন্ড হেল্প’ একটি রক্তাক্ত বেঁচে থাকার থ্রিলার, যেখানে ওব্রায়েনের চরিত্রকে “হেটেবল” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি এমন ভূমিকায় অভিনয় করতে আনন্দ পান, যা দর্শকের কাছে নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দেয়। এই ধরনের চ্যালেঞ্জ তাকে তার ক্যারিয়ারকে আরও বৈচিত্র্যময় করতে সহায়তা করে।
ওব্রায়েন সামাজিক মিডিয়ায় সক্রিয় নন; তিনি ইনস্টাগ্রামসহ কোনো প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত নন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে তিনি হলিউডের অতিরিক্ত প্রচার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি তার অস্বস্তি উল্লেখ করেন। তার এই পদ্ধতি তাকে শিল্পের ভিড় থেকে আলাদা করে দাঁড়াতে সহায়তা করে।
হলিউডের কাজের পরিবেশ নিয়ে ওব্রায়েনের কিছু অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘টুইনলেস’ ছবির জন্য চমৎকার সমালোচনামূলক প্রশংসা পাওয়া সত্ত্বেও, প্রচারমূলক দিক থেকে যথেষ্ট সমর্থন পাননি। এই অভিজ্ঞতা তাকে শিল্পের অস্থিরতা সম্পর্কে সচেতন করেছে।
‘টুইনলেস’, একটি অন্ধকার কমেডি, যেখানে ওব্রায়েনের পারফরম্যান্সকে স্পিরিট অ্যাওয়ার্ডের সেরা লিড পারফরম্যান্সের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছবিটিকে সেরা ফিচার ক্যাটেগরিতেও মনোনয়ন করা হয়েছে। এই স্বীকৃতি তার অভিনয় দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
সমালোচনামূলক প্রশংসা এবং প্রচারমূলক ঘাটতির মধ্যে ওব্রায়েনের ক্যারিয়ার এক ধরনের ‘ইন্ডাস্ট্রি হুইপল্যাশ’ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ভালো রিভিউ পাওয়া সত্ত্বেও, দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ কমে যায়। এই পরিস্থিতি তাকে ভবিষ্যতে আরও স্বতন্ত্র ও চ্যালেঞ্জিং প্রকল্পে কাজ করার দিকে ধাবিত করেছে।
বর্তমানে ওব্রায়েন তার ফিল্মোগ্রাফি বিস্তৃত করতে বিভিন্ন ধরণের চরিত্রে নিজেকে নিযুক্ত করছেন। ‘সেন্ড হেল্প’ শুটিংয়ের সময় তার কাজের পদ্ধতি, সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং পরিচালকের সঙ্গে সমন্বয় তাকে আরও শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবে গড়ে তুলছে।
‘সেন্ড হেল্প’ শীঘ্রই বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে, এবং দর্শকরা ওব্রায়েনের নতুন রূপ দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন। তার অনন্য পদ্ধতি ও শিল্পের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে আরও আকর্ষণীয় প্রকল্পের সূচনা করবে বলে আশা করা যায়।



