প্রাক্তন হোম সেক্রেটারি সুয়েলা ব্রাভারম্যান ২৬ জানুয়ারি ২০২৬-এ কনজারভেটিভ পার্টি ত্যাগ করে নিগেল ফারেজের রিফর্ম ইউকে-এ যোগদান জানান। তিনি ফেয়ারহাম ও ওয়াটারলুভিল নির্বাচনী এলাকা থেকে কনজারভেটিভসের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন এবং তার পদত্যাগের কারণ হিসেবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পার্টির নীতি ভিন্নতা উল্লেখ করেন।
ব্রাভারম্যানের এই পদক্ষেপটি গত এক সপ্তাহে কনজারভেটিভস থেকে রিফর্মে যোগদানকারী তৃতীয় সংসদ সদস্য, ফলে রিফর্মের সংসদীয় প্রতিনিধির সংখ্যা আটে বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বে রবার্ট জেনরিক ও অ্যান্ড্রু রোসিনডেলও একই সময়ে পার্টি ছেড়ে রিফর্মে গেছেন।
প্রেস কনফারেন্সে তিনি দুই বছর ধরে নিজেকে রাজনৈতিকভাবে নিঃশ্বাসহীন বলে বর্ণনা করেন এবং ব্রেক্সিট, অভিবাসন নীতি ইত্যাদি বিষয়ে পার্টির সঙ্গে তার মতবিরোধের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে কনজারভেটিভসের অভিবাসন নীতি অপ্রতিরোধ্য এবং উচ্চ করের চাপ দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
কনজারভেটিভ পার্টি দ্রুত একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায় যে ব্রাভারম্যানের পদত্যাগ কেবল সময়ের প্রশ্ন ছিল, তার আগমনকে অপ্রত্যাশিত নয় বলে। পার্টির মুখপাত্র উল্লেখ করেন, কিছু সংসদ সদস্য জনগণের মঙ্গলের জন্য কাজ করেন, অন্যরা ব্যক্তিগত স্বার্থে পদ গ্রহণ করেন।
প্রাথমিক বিবৃতিতে কনজারভেটিভসের প্রতিনিধিরা ব্রাভারম্যানের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেওয়ার কথা উল্লেখ করে, তবে পরে এই অংশটি ভুলে পাঠানো একটি খসড়া বলে সংশোধন করে। সংশোধনের পরের প্রকাশে বলা হয়, মূল বাক্যটি ভুলবশত পাঠানো হয়েছিল।
ব্রাভারম্যান এই মন্তব্যকে “কিছুটা তুচ্ছ” বলে সমালোচনা করেন এবং পার্টির অভ্যন্তরীণ অবস্থা “ক্লান্তিকর ও আত্মহত্যামূলক” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি পার্টির এই আচরণকে “বিটার ও হতাশা” হিসেবে উল্লেখ করে, কনজারভেটিভসের নেতৃত্বের প্রতি তার আস্থা হ্রাসের ইঙ্গিত দেন।
তিনি তার পদত্যাগের প্রক্রিয়াকে “বিবাহবিচ্ছেদ” এর সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে ধীরে ধীরে বিশ্বাসের ক্ষয়, সংযোগের বিচ্ছিন্নতা এবং স্নেহের অবসান ঘটে। এই বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট হয়, তিনি পার্টির সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি দীর্ঘ সময়ের ফলাফল হিসেবে দেখেন।
ব্রাভারম্যান কনজারভেটিভসের ব্রেক্সিট নীতি ব্যর্থতা, অপ্রতিরোধ্য অভিবাসন এবং উচ্চ করের চাপকে তার ত্যাগের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পার্টির মধ্যে একটি “কেন্দ্রীয় প্রচেষ্টা” দেখা গেছে, যা ডানপন্থী মতাদর্শকে লক্ষ্য করে একটি “ডাকাতি শিকারের” মতো কাজ করেছে।
স্থানীয় কনজারভেটিভ সক্রিয় সদস্যদের প্রতি তিনি সমবেদনা প্রকাশ করে, তাদের উদ্বেগ ও রাগ স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে পার্টির পুনর্গঠন ও নীতি সংশোধনের আহ্বান জানান। তিনি ফেয়ারহাম ও ওয়াটারলুভিলের ভোটারদেরও অনুরোধ করেন, তাদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য নতুন রাজনৈতিক বিকল্প বিবেচনা করতে।
রিফর্মের সংসদীয় প্রতিনিধির সংখ্যা আটে পৌঁছানোর ফলে পার্টির রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। কনজারভেটিভসের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং ধারাবাহিক ত্যাগের ফলে পার্টি ভবিষ্যৎ নির্বাচনে কৌশলগত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারে।
পরবর্তী সময়ে রিফর্মের নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা, কনজারভেটিভসের পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং অন্যান্য সম্ভাব্য ত্যাগের সম্ভাবনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে। পার্টিগুলোর মধ্যে এই পরিবর্তনগুলো দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপথ গড়ে তুলতে পারে।



