যশোর জেলায় কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হোসেন সাদ্দামের প্যারোল না দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশের ৩৯ নাগরিক একত্রে নিন্দা জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এই অমানবিক পদক্ষেপের ফলে সাদ্দামের স্ত্রী ও শিশুর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মৌলিক অধিকারই লঙ্ঘিত হয়েছে।
সাদ্দাম ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে যশোর জেলা কারাগারে বন্দি আছেন। তার গ্রেফতার থেকে এখন পর্যন্ত কোনো রায় প্রকাশিত হয়নি, ফলে তিনি এখনও বিচার প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
শুক্রবার বিকালে, উপজেলায় অবস্থিত সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে সাদ্দামের স্ত্রী সুবর্ণা স্বর্ণালী, বয়স ২২ এবং তাদের নয় মাসের পুত্র নাজিফের দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, স্বর্ণালীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে রশি বাঁধা অবস্থায় ঝুলে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়, আর শিশুটি মেঝে থেকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের মতে, স্বর্ণালী এবং নাজিফের দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে ঘটনাস্থলে হঠাৎ ঘটনার সূত্রে তদন্ত চলছে। দেহ উদ্ধার করার পর, দুজনের দেহকে যশোরের কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে সাদ্দাম শেষবারের মতো তাদের দেহ দেখেন।
সাদ্দামকে দেহ দেখার পরই, কারাগারের কর্তৃপক্ষ তাকে আবার জেলে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়। একই রাতে, পরিবারিক কবরস্থানে দুজনের দেহ পার্শ্ববর্তী গর্তে সমান্তরালভাবে দাফন করা হয়। দাফন কাজটি রাত ১২টার কাছাকাছি সম্পন্ন হয়।
সাদ্দামের স্ত্রী ও শিশুর মৃত্যুর পর, সাদ্দামকে প্যারোল না দিয়ে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। অনলাইন ব্যবহারকারীরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কঠোরভাবে নিন্দা করেন।
৩৯ নাগরিকের একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “অন্তর্বর্তী সরকার যে অমানবিক এবং অবিবেচক আচরণ প্রদর্শন করেছে, তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।” তারা আরও যুক্তি দিয়ে বলেন, সাদ্দামের পরিবারিক ক্ষতির পরেও তাকে প্যারোল না দিয়ে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়া সরকারী নীতি ও মানবিকতার বিরোধী।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ধরনের অবহেলা এবং প্রতিহিংসামূলক আচরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফল যদি ন্যায়সঙ্গত হয়, তবে দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
বিবৃতির স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় রাশেদা কে. চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, শহিদুল আলম, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, শামসুল হুদা, শাহীন আনাম, শাহনাজ হুদা, সামিনা লুৎফা, সুমাইয়া খায়ের, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট তবারক হোসেন, ফস্টিনা পেরেইরা এবং অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী অন্তর্ভুক্ত।
বিবৃতি প্রকাশের পর, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ৩৯ নাগরিকের দাবি অনুযায়ী, তদন্তের দায়িত্বে থাকা উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
অধিকন্তু, সাদ্দামের প্যারোল সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আইনি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ আদালতিক প্রক্রিয়া এখনো অনিশ্চিত। আইনগত দিক থেকে, প্যারোল অনুমোদন না করা হলে তা মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তাই আদালত বা মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্বচ্ছ তদন্ত চালাতে আহ্বান জানানো হয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে, সমাজের আস্থা ক্ষয়প্রাপ্ত হবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা পুনরাবৃত্তি হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।



